পাবনায় ‘বিকাশ এজেন্ট’ সেজে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করল পুলিশ

অপহরণকারীদের জিম্মি থেকে শাহাদৎ মোল্লা (৪০) নামে এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে অভিযোগের দু’ঘণ্টার মাথায় উদ্ধার করল পুলিশ। এ ঘটনায় মূল হোতা মিরাজুল ইসলাম শেখ (২৮) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত মিরাজুল শেখ সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের শালাইপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে ও গয়েশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন মুতাই এর নাতি।

ঘটনার দুইদিন পর বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়। অপহৃত ব্যবসায়ী পাবনার আটঘরিয়া থানার লক্ষিপুর গ্রামের মৃত দিরাজ মোল্লার ছেলে। পাবনার বিভিন্ন হাটবাজারে পেঁয়াজ ক্রয় করে আবার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

পাবনার পুলিশ সুপারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানা যায়, বুধবার (১৩) এপ্রিল বিকেল চারটার দিকে এক মহিলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় মহিলা সব ঘটনা খুলে বলে। পুলিশ সুপার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত উদ্ধার করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে মাসুদ আলম, ডিবির এসআই আবু আব্দুল্লাহ জাহিদকে ডেকে নেন এবং দ্রুত টিম রেডি করে ফোর্স পাঠিয়ে দেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে বাড়ি হতে ৫২ হাজার টাকা নিয়ে হাজিরহাট যাবার জন্য বের হয়। মাঝপথে অপহরণের শিকার হন। তারা ফোন করে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। পরে তার স্ত্রী আলেয়া বেগম পাবনার এসপির শরণাপন্ন হন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, বিকাশের দোকানদার সেজে অপহরণকারীদের সাথে কথা হয় আমাদের। তারা একটি বিকাশ নাম্বার দিয়ে বলে এক লাখ টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। নিশ্চিত হওয়া যায় বিকাশ নম্বরের মালিক মূলহোতা। পরে ওই গ্রামে গেলে গ্রামের শেষ মাথায় প্রায় বিশ বিঘার প্রাচীন পুকুর। পুকুরের ওপারে ভিকটিমকে আটকে রাখা হয়েছে। পুকুরের পাড় পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কিলোমিটার আমরা সবাই দৌঁড়ে যাই।

মাসুদ আলম আরও জানান, অপহরণকারীরা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ভিকটিম শাহাদাৎ মোল্লাকে ফেলে পালিয়ে যায়। বিশাল পুকুরের কারণেই অপহরণকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শাহাদাৎকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

শাহাদৎ মোল্লার স্ত্রী আলেয়া বেগম পাবনার পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘স্বামীকে অপহরণের সাথে সাথে আমি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরই তারা উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়ে। দেরি করলে হয়ত তারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলত। পুলিশ সুপার স্যারের এই উপকারের কৃতজ্ঞতা আজীবন মনে রাখব।’

পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, এই ঘটনার সাথে জড়িত মূলহোতাকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় অপহরণকারীরা দীর্ঘদিন যাবৎ অপরাধ করে চলছে। এই চক্রটি টার্গেট অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে, মহিলা দিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে চাঁদাবাজি করে আসছিল। এই চক্রের সবাইকে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি অচিরেই তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারব।