পাবনায় আইসোলেশনে একজন ভর্তি হতেই অন্যরা পালাল

ফাইল ছবি

পাবনার বেড়া উপজেলায় করোনাভাইরাসের কিছু উপসর্গ থাকা এক তরুণকে (২৬) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয় গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে। এ খবর জানাজানি হতেই দেড় ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা ৪০ জন রোগীর মধ্যে ৩১ জনই হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। আজ রোববার দুপুরের মধ্যে আরও ছয়জন রোগী চলে যাওয়ায় এখন সেখানে মাত্র তিনজন রোগী রয়েছেন।

এদিকে ওই তরুণের করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গত শুক্রবার ওই তরুণকে আইসোলেশনে নেওয়ার পর থেকেই বেড়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়ে আসছে বলে জানা গেছে।

বেড়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণ জ্বর, গলাব্যথা নিয়ে ২৫ মার্চ উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তাঁর অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আনাম সিদ্দিকী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সরদার মো. মিলন মাহমুদ ২৭ মার্চ সেখানে যান। সবকিছু দেখে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁরা ওই তরুণকে ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে জেলা পরিষদের একটি (কাশিনাথপুরে অবস্থিত) ডাকবাংলোতে আইসোলেশনে রাখেন। পাশাপাশি ওই তরুণের শ্বশুরবাড়ির ১৬ জন সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই তরুণকে আইসোলেশনে রাখা ডাকবাংলোটির অবস্থান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আট শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট। এই ইউনিটটি সাধারণ রোগীদের ওয়ার্ড থেকে নিরাপদ দূরত্বে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত।

গতকাল সন্ধ্যার দিকে ইউএনও এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওই তরুণকে ডাকবাংলো থেকে নিয়ে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করেন। তাঁকে ভর্তির কথা জানাজানি হতেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া সাধারণ রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ওই সময় নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ৪০ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন রোগীই এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেড়ে চলে যান। পরে সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে যান আরও ছয়জন রোগী।

আজ দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড মিলিয়ে মাত্র তিনজন রোগী রয়েছেন। আলাপকালে তাঁরাও বিকেলের মধ্যেই হাসপাতাল ছেড়ে যাবেন বলে জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সরদার মো. মিলন মাহমুদ বলেন, ‘ওই রোগীকে নিরাপদ দূরত্বে আলাদা ভবনে আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ রোগীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তা সত্ত্বেও সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া অনেক রোগীই চলে গেছেন। বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা অসুস্থ তরুণকে চিকিৎসা দিচ্ছি। তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তাঁর নমুনা পরীক্ষার ব্যাপারে আমরা ঢাকায় যোগাযোগ করে যাচ্ছি।’

ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক ওই রোগীর ব্যাপারে খোঁজ রাখছি। তাঁর নমুনা পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হচ্ছে।’