পাবনাসহ রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্ত কম হওয়ায় সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালানো করোনা ভাইরাসে কাঁপছে বাংলাদেশও। গত ১২ এপ্রিল দেশের সববিভাগে যখন করোনার রোগীতে সয়লাব, তখনও আক্রান্তের তালিকায় ছিল না পাবনাসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা। ১৩ এপ্রিল রাজশাহী বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এখন (২৬ এপ্রিল পর্যন্ত) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। এর মধ্যে পাবনা জেলায় ২ জন।

তবে এই সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের চেয়ে অনেক কম। দেশের মোট আক্রান্তের মধ্যে রাজশাহীর ৮ বিভাগে শনাক্ত হয়েছে ০ দশমকি ৮৬ শতাংশ। এখানে তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার (২৭ এপ্রিল)  আট জেলার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি করোনার প্রাদুর্ভাব যাতে আর না বাড়তে পারে সেদিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ভালো বিষয় দেখলাম যে, এই জেলাগুলো এখনও সেরকম সংক্রমিত হয়নি। যথেষ্ট ভালো আছে। এই বিষয়টি আপনাদেরকে ধরে রাখতে হবে। আর যাতে কেউ সংক্রমিত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।’

মতবিনিময়কালে পাবনা প্রশাসক কবীর মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন,  ‘মে মাসের চার বা পাঁচ তারিখে রূপপুর প্রকল্পে আরও ১৬২ জন বিদেশি আসবেন। তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে দু’টি ভবন প্রস্তুত রেখেছেন। রূপপুর প্রজেক্টে কর্মরত শ্রমিকদের পরিবেশ ও কাজ শেষে বেরিয়ে আসার সময় দু’দফা তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেখানে কর্মরত বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

পাবনার জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘রূপপুর প্রজেক্টে কর্মরত যারা চলে গিয়েছিলেন তারা আবার আসছে। তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। রাশিয়াতে আবার নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এজন্য রূপপুর প্রোজেক্টে যারা আসবেন তাদেরকে আগে কোয়ারান্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কোয়ারান্টিন শেষ হলে তাদের কাজে লাগাতে হবে।’

নাটোর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই একটা জেলা পেলাম যেখানে এখন পর্যন্ত একটাও করোনা আক্রান্ত রোগী দেখা যায় নাই। আপনারা যথেষ্ট ভালো রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তার মানে নাটোরের কারো শ্বশুরবাড়ি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর বা শিবচরে নেই। দেখা যাচ্ছে নিজের বাড়ি না গিয়ে শ্বশুরবাড়ি ওঠে। সেইসঙ্গে করোনার সংক্রমণ ঘটায়।’

অবশ্য এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের জেলায় প্রচুর লোক যাচ্ছে। তবে তারা তাদের সবার হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, চাপাই নবাবগঞ্জ, নওগাঁ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।