পাবনার ৩ উপজেলায় ব্যাপক ভাঙন

পাবনায় পদ্মা-যমুনা নদীর পানি ফুলে-ফেঁপে উঠছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মা নদীর পানি।

এ দিকে এ দুটি বড় নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বেড়া, সুজানগর ও ঈশ্বরদী উপজেলায় ব্যাপক ভাঙন দেয়া দিয়েছে। এ সব এলাকার নিচু এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ায় শত শত বিঘা জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও জেলার পদ্মা-যমুনার বাম তীরের মানুষ জানান, প্রতি বছর পানি বাড়ার সময় এবং পানি নেমে যাওয়ার সময় এ সব এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। সবচেয়ে ভাঙন প্রবণ এলাকা জেলার বেড়া এবং তার পরই রয়েছে সুজানগর উপজেলা।

এ ছাড়া ঈম্বরদী উপজেলাতেও পদ্মার বাম তীর ভাঙনের কবলেলে পড়ে প্রতিবছরই। পাউবো এবং এলাকাবাসীর তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর থেকে ‘৯০-এর দশকের শেষ সময় পর্যন্ত একটানা ভাঙনে বেড়া উপজেলার মানচিত্রই পাল্টে যায়। সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয় ঐতিহাসিক নগরবাড়ি এলাকা।

এ এলাকার নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা, রূপপুর, ঢালারচর ইউনিয়নের কয়েকশ’ গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় নগরবাড়ি ঘাট এলাকার হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজারসহ কয়েকশ’ স্থাপনা এবং হাজার হাজার বিঘা জমি ও জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙন অব্যাহত থাকায় নগরবাড়ি ঘাট অন্তত ১০ কিলোমিটার বাম তীরে চলে আসে। এ সব এলাকার হাজার হাজার মানুষ সর্বশান্ত্ব হয়ে মুজিব বাঁধ এবং সরকারি উঁচু ও খাস জায়গায় আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।

সূত্র মতে, গেল দু’বছর ভাঙন একটু কম ছিল। পাশাপাশি বন্যাও তেমন আঘাত হানেনি এ সব এলাকায়। কিন্তু এবারে পদ্মা-যমুনা তার চির আগ্রাসীরূপ নিচ্ছে। ফুলে-ফেঁপে উঠছে এ বড় দুটি নদীর পানি। এখন নগরবাড়ি এলাকায় সদ্য স্থাপিত মেরিন একাডেমি, নগরবাড়ি নদীবন্দর, নির্মাণাধীন বাফার গোডাউন, ঐতিহাসিক ধোবাখোলা করোনেশন (নাটিয়াবাড়ি) স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে। আগের মতো ভাঙন দেখা দিলে এ সব স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে।

পাবনার বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং নগরবাড়ি ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে বেড়া এবং সুজানগরে যমুনা ও পদ্মা নদীর বাম তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৩ দিন ধরে বেড়া উপজেলার যমুনার বাম তীরের রাকশা, প্যাঁচাকোলা, চরপ্যাঁচাকোলা, পাইকান্দা, মোহনপুর, নটাখোলা, মধুপুর, ঘোপসিলিন্দা গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সুজানগর উপজেলার পদ্মার বাম তীরের সাতবাড়িয়া, গুপিনপুর, মাঝপাড়া, রাইপুর, হাটমালিফা, ভুলচন্দপুর, হাশামপুর ও খলিলপুরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাউবো কয়েকটি এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে।

এ দিকে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন জানান, পদ্মা নদীর পানি পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২.২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ও সাঁড়া ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ সব এলাকার নিচু জায়গা বন্যাকবলিত হওয়ায় শত শত বিঘা জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে।

কর্মকর্তারা জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এবার বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।