পাবনার ১১ গৃহহীন অসহায় পরিবারের দুর্দশা ঘোচাল পুলিশ

পাবনার ফরিদপুরের নাজমা খাতুন পরের বাড়িতে গৃহপরিচালিকার কাজ করে সংসার চালাতেন। ছিল না মাথা গোঁজার ঠাঁইও। স্বামীপরিত্যক্ত এই নারীর একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে এগিয়ে আসলো পুলিশ। তার দুর্দশা দূর করতে জমিসহ একটি আধা পাড়া ঘর করে দিল পাবনা জেলা পুলিশ। শুধু নাজমা নয় পাবনার ১১টি থানা এলাকায় ১১ গৃহহীন অসহায় পরিবারের এমন মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিল পুলিশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও পুলিশের আইজিপির উদ্যাগে এ ঘরগুলো তৈরি করে দেয়া হয়েছে। আগামীকাল রবিবার (১০ এপ্রিল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জমিসহ নির্মিত ঘরগুলো উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

পাবনা জেলা পুলিশ জানায়, গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক থানায় একটি হতদরিদ্র পরিবারকে নূন্যতম এক কাঠা জমি ক্রয় করে আনুমানিক ৪১৫ বর্গফুট আয়তনের দুই কক্ষ, রান্নাঘর ও টয়লেট বিশিষ্ট একটি গৃহ নির্মাণ করে দেয়ার কাজ এরই মধ্যে শেষে হয়েছে।

ঘরপাওয়া ১১ হতদরিদ্ররা হলেন- পাবনা সদরের কিচমত প্রতাপপুর গ্রামের বাজিতপুর ঘাটের মাসুদ রানার স্ত্রী স্বপ্না বেগম, ফরিদপুরের চাঁদপুর গ্রামের মৃত মজনু সরদারের স্বামীপরিত্যক্ত মেয়ে নাজমা খাতুন, ঈশ্বরদীর অরণখোলা গ্রামের রেজাউল শেখের ছেলে মামুন শেখ, আটঘরিয়ার থানা পাড়ার শ্রী বিশ্বনাথ দাসের মেয়ে শ্রীমতি সুজাতা দাস, চাটমোহরের হরিপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ার গ্রামের মোস্তফা উদ্দিনের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন, ভাঙ্গুড়ার পার-ভাঙ্গুড়ার পাটুলি গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের স্ত্রী খাদিজা খাতুন, ফরিদপুরের চাঁদপুর গ্রামের মৃত মজনু সরদারের স্বামীপরিত্যক্ত মেয়ে নাজমা খাতুন, সাঁথিয়া পৌর এলাকার প্রিথুলিয়া গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে নুর আমিন মীর, বেড়ার চাকলা গ্রামের আব্দুল গফুরের আলমগীর হোসেন, আমিনপুর থানার জাতসাকিনীর তমসের শেখের স্ত্রী ময়না খাতুন, আতাউকুলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রইচ শেখের স্ত্রী আসিয়া খাতুন ও সুজানগরের চরসুজানগরের মৃত জামাল সরদারের ছেলে আব্দুস সাত্তার সরদার।

পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন ‘বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’। প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ স্যারের পরামর্শ অনুযায়ী হতদরিদ্রদের জন্য সুষ্ঠুভাবে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অনেক মানবিক কাজ করে থাকে, অতীতেও করেছে, যা হয়তো এখন আরো বেশি দৃশ্যমান।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের খুব কাছে যেতে চাই। যাদের ঘর দেওয়া হচ্ছে তাদের অনেকেই বিধবা নারী। তারা ভিক্ষাবৃত্তি ও গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। তাদেরই পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ।’