পাবনার হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি

পাবনায় যমুনা ও পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) যমুনা নদীর পানি নগরবাড়ি মথুরা পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে পদ্মার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দী ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি। বন্যার পানির বেগে ভেঙে গেছে ৫-৬ টি কাঁচা-পাকা সড়ক।

সাগরকান্দী ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে ওই ইউনিয়নের তালিমনগর, গোবিন্দপুর, মাদিয়ারকান্দি, পিরেনতলা, শ্যামসুন্দরপুর, চরখলিলপুর, চরশ্রীপুর এবং হুগলাডাঙ্গীসহ ৮-১০টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে ইউনিয়নের তালিমনগর শাহ মাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, তালিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রিয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, শ্যামসুন্দরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হুগলাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৮-১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার শতশত বিঘা ফসলি জমি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম খান জানান, বন্যায় বাড়িঘর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পানির তীব্র বেগে তালিমনগর-শ্যামসুন্দপুর পাকা রাস্তাসহ এলাকার ৫-৬টি কাঁচা-পাকা রাস্তা ভেঙে গেছে। এতে এলাকাবাসীর চলাফেরায় চরম দুর্ভোগ হচ্ছে।

শ্যামসুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা সজিব হাসান বলেন, পানিবন্দি লোকজন সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন গৃহপালিত পশু নিয়ে। গৃহপালিত পশু রাখার অসুবিধাসহ গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকরা তাদের গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আলী। জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।