পাবনার সাঁড়া ইউনিয়নে ব্যাতিক্রমী আয়োজনে মুখরিত সুবর্ণজয়ন্তী

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রমত্ত পদ্মার পাড় ঘেঁষে প্রত্যন্ত অঞ্চল ‘সাঁড়া ইউনিয়ন’। একটা সময় নদী ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসীর রাতের ঘুম হতো না। বর্তমান সরকারের সময়ে নদী রক্ষা বাধ নির্মাণ হওয়ার পর এ অঞ্চলের মানুষ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। ঠিক সেই মুহুর্তে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ইউনিয়নটিতে উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে ব্যাতিক্রমী নানা আয়োজনে উদযাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ মার্চ ২০২১) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার এই ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে দিবসটি উদযাপিত হয়। রাতের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে দিবসটির শুভ সুচনা করা হয়।

বিকেলে ব্যাতিক্রম সব আয়োজনের মধ্যে ছিল শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গান রচনা, কবিতা আবৃতি, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মুক্তিযোদ্ধাদের টার্গেট নিশানায় বল নিক্ষেপ, মু্ক্িতযোদ্ধা বিষয়ক সবার জন্য যেমন খুশি তেমন সাজো, গ্রাম পুলিশদের বল নিশানায় আঘাত, ইউপি মেম্বরদের ঝুঁড়িতে বল ফেলানো, গ্রামের অতিথিদের গুপ্তধন লুকানো, শিক্ষকদের জন্য কি আচে কপালে, শিক্ষীকাদের জন্য বাজনা থামলে রঙিন বল কোথায়, গানের তালে ভাগ্য পরীক্ষা, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য কেরাত প্রতিযোগিতা, মহিলা অতিথিদের জন্য গানের তালে তালে আসন ত্যাগ, ছেলেদের জন্য নৃত্য, রাজনৈতিক দলের অঙ্গসহযোগী নেতাকর্মীদের জন্য টার্গেট নির্ধারণসহ বিভিন্ন আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নারী পুরুষসহ সব বয়সী ছেলেমেয়রা বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় জনাকীর্ণে পরিনত হয়।

এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের নিশানা টার্গেটের বল নিক্ষেক ইভেন্টটি সবাইকে মুগ্ধ করেছে, এ সময় দর্শকদের উচ্ছাস ছিল চোখে পড়ার মত। খেলার সময় সবাই মুহুমুহু করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান।

এর আগে ৩ দিন ধরে মাইকিং করে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপনের ঘোষণা দেয় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

১ নং সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন জি.এমের সভাপতিত্বে শিক্ষক নওশাদ আলীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি বক্তব্য দেন, সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাঁড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জমসেদ আলী সরদার, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল করিম সাধু, আ.লীগ নেতা অনঙ্গ কুমার কুন্ডু, বীর মু্ক্িতযোদ্ধা পানা উল্লাহ সরকার, আতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান স্বজন সরকার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ কালোরাতে স্বাধীনতার ঘোষণার কথা বারবার উচ্চারিত হলেও ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণার বীজরোপণ করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের পরই যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই প্রস্তুত হয়েছিল লড়াই সংগ্রামের জন্য। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুই মহান স্বাধীনতার ঘোষক।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এখন বয়স্ক নারী পুরুষ সবাই ভাতা পায়, কেউ না খেয়ে মারা যাওযার রেকর্ড নাই এই ইউনিয়নে, কৃষক দিনমজুরের ছেলে মেয়েরা শতভাগ স্কুলে যায়, সারের জন্য কোন কৃষকের দুর্ভোগ নেই। এক সময়ের প্রসিদ্ধ আরামবাড়িয়া বাজার এখন আর গ্রাম নেই, গ্রামই এখন শহরে রুপান্তর হতে চলেছে। উপজেলার মধ্যে একটি মডেল ইউনিয়ন পরিষদে পরিনত করার জন্য আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতা পলে দেশ সেরা ইউনিয়ন পরিষদ বানাতে চান এই চেয়ারম্যান।

error: কাজ হবি নানে ভাই। কপি-টপি বন্ধ