দখলদার শিল্পপতিকে রুখে দিতে চান পাবনার মুক্তিযোদ্ধারা

পাবনায় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বর্তমান ভবন দখলের পাঁয়তারা ও পৌর এলাকার বাহিরে নতুন ভবন নির্মাণের নামে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চান পাবনার মুক্তিযোদ্ধারা ।

পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা পাবনায় এক শিল্পপতির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা শহরের প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ রোডে মানববন্ধন করেন মুক্তিযোদ্ধারা। জেলা সেক্টর কমান্ডার ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ-৭১ ও জেলা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর নাম উচ্চারণ করে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই শিল্পপতির দখলে পাবনার বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র, পৌরমুক্ত মঞ্চ, অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীসহ পাবনার নানা স্থাপনা। এখন তিনি পাবনার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে সাবেক জেলা কমান্ডার কর্তৃক ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে বর্তমানে স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন আধুনিকায়নের নামে তা দখল এবং নির্মাণের নামে পৌর এলাকা থেকে সরিয়ে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের এক গুচ্ছগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু আমরা এই যড়যন্ত্র রুখে দেব।

তারা আরও বলেন, কুক্ষিগত ভাবে জেলার সকল সামাজিক স্থাপনা উন্নয়নের নামে তিনি কৌশলে দখল করেছেন। তিনি যে পরিমাণে কর ফাঁকি দিয়েছেন, সেই টাকা দিয়ে বর্তমান পৌরসভার তিগুণ উন্নয়ন সম্ভব। আর এই সকল কার্যক্রম তিনি পৌর মেয়রের সহযোগিতায় করে থাকেন। তাই আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে তার মননত প্রার্থীকে আবারো জয়ী করার জন্য চেষ্টা করছেন। আমরা সচেতন পাবনাবাসী এবং মুক্তিযোদ্ধারা এই ষড়যন্ত্রকারী দখলদারের হাত থেকে মুক্তি চাই। আর এই বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পাবনার মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আমরা জীবনবাজী রেখে যু্দ্ধ করেছিলাম মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য। মানুষের স্বাধীনতার জন্য। সেই স্বাধীনতার মুদ্ধের স্বাক্ষর বহন করে পাবনার পৌর মুক্তমঞ্চ। সেই মুক্তমঞ্চের নাম পরিবর্তন করে আজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মুক্তমঞ্চ আজ মুক্তি নয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন এই শিল্পপতি। আমরা এই মুক্তমঞ্চকে আবারও মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় প্রার্টির সাবেক এমপি মোকবুল হোসেন সন্টু, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি সুলতান আহম্মেদ ব্যুড়ো, ন্যাপ জেলার সভাপতি রেজাউল করিম মনিসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাসহ সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহন করেন।