পাবনায় ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম স্থানে নৌকার প্রার্থীরা!

চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাবনা সদর উপজেলার ০৯টি ইউনিয়নের সব কয়টিতেই শোচনীয় পরাজয় হয়েছে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা। ৯টির মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীরা কোনও রকম ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারিনি। ৪টির মধ্যে একটিতে ৫ম, আরেকটিতে ৪র্থ এবং ২টি ইউপিতে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নৌকার প্রাথীরা।

রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা কায়ছার মোহাম্মাদ। ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থানে মালঞ্চি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী আব্দুল আলিমের। ২৪ হাজারের এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ৪৬৪ ভোট। এই ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থীর মধ্যে তিনি ৫ম স্থানে রয়েছেন। এখানে ৫ হাজার ৩৯৬ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন আনারস প্রতীকের কবীর আহম্মেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা প্রতীকের নওয়াব আলী খন্দকার পেয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ ভোট। এছাড়াও হাজী মোহাম্মদ জয়নাল আলী মোল্লা (ঘোড়া) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯৯ ভোট এবং মেহেদী হাসান বাবন (মোটরসাইকেল) ২ হাজার ৬৩৪ ভোট।

দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আলতাব হোসেন হয়েছেন ৪র্থস্থানে। পাবনার প্রভাবশালী আ.লীগ নেতা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানের এই ভাই পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৭ ভোট। এই ইউনিয়নে ১২ হাজার ৫৭৬ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীকের আলী হাসান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের আজমত বিশ্বাস পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৫১ ভোট। এছাড়াও রজনীগন্ধা প্রতীকের হযরত আলী পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৮ ভোট। আবু সাঈদ খানের ইউনিয়ন ভাড়ারায় নির্বাচনীয় সহিংসতায় চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহতের ঘটনায় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

গয়েশপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শামসুল মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩য় স্থানে রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী ভোট পেয়েছেন মাত্র ৬২৯টি। এই ইউনিয়ন পরিষদের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩২ হাজার ২৪৩ জন। এখানে ১২ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন আনারস প্রতীকের মোতাহার হোসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জিন্নাহ মন্ডল (ঘোড়া) পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৩ ভোট।

আতাইকুলা ইউনিয়নে নৌকার প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আতিয়ার হোসেনও ৩য় স্থানে রয়েছেন। ৩৪ হাজর ভোটারের ইউনিয়নে নৌকার এই প্রার্থী পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭৬ ভোট। এখানে মোটরসাইকেল প্রতীকের শওকত হোসেন ৮ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস পেয়েছেন ৭ হাজার ২৫৭ ভোট।

এর আগে রবিবার কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ছাড়া পাবনার সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। হেমায়েতপুরের নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও নজরুল ইসলাম হাবু উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টের বের করে দেয়া এবং চর ঘোষপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এতে চরঘোষপুর কেন্দ্রে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এছাড়াও আতাইকুলা ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। ‌

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে চতুর্থ ধাপে পাবনার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার মোতায়েনের পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং, স্ট্যান্ডবাই ফোর্স মোতায়েন করা ছিল।

error: কাজ হবি নানে ভাই। কপি-টপি বন্ধ