এক নজরে পাবনার ৩৪টি দর্শনীয় স্থান, যেভাবে যাওয়া যাবে

দেশের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলভূমি আমাদের চির সবুজ পাবনা জেলাও। এই জেলায় রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। দেশের নানা প্রান্তের মানুষ এই সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসে। জেনে নিন পছন্দের তালিকায় বেশি স্থান পাওয়া পাবনার দর্শনীয় স্থান গুলোর নাম।

০১. পাকশি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ : পাবনার দর্শনীয় স্থান হিসেবে খ্যাতি রয়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এর, পাবনা জেলা সদর হতে ঈশ্বরদী উপজেলার দুরত্ব আনুমানিক ২৫-৩০ কিলোমিটার। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল। ঈশ্বরদী উপজেলার ১টি ইউনিয়ন ও গ্রামের নাম পাকশী। পাকশী রুপপুর প্রকল্পের পাশে এবং পদ্মা নদীর তীরে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের অবস্থান। উক্ত স্থানে আনুমানিক ০১(এক) ঘন্টা সময়ে পাবনা জেলা শহর হতে সড়কপথে দাশুরিয়া মোড় হয়ে যাওয়া যায়

০২. পাবনা মানসিক হাসপাতাল : পাবনার দর্শনীয় স্থান হিসেবে খ্যাতি রয়েছে পাবনা মানসিক হাসপাতালেরও। সড়ক পথে যে কোন স্থান হতে  বাস অথবা নিজস্ব পরিবহন মারফত পাবনা বাস টার্মিনাল আগমন। বাস টার্মিনাল হতে  পাবনা মানিসিক হাসপাতাল ৭ (সাত) কি:মি: দুরে অবস্থিত। উক্ত পথ বাস টার্মিনাল হতে রিক্সা/অটোরিক্সা/সিএনজি যোগে আনুমানিক ৩০-৪০ মিনিটে যাওয়া যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো আছে।

০৩. পদ্মা ঘাট (শিলাইদহ ঘাট) : পাবনা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরত্বে পদ্মা ঘাট। পাবনার অংশ এই ঘাটকে শিলাইদহ ঘাটও বলে। পাবনা শহর থেকে  সিএনজি/নিজ পরিবহন যোগে পদ্মা ঘাটে মাত্র ২০ মিনিটেই যাওয়া যায়।

০৪. পাবনা রেল স্টেশন : বিশাল এলাকাজুড়ে পাবনা রেলওয়ে স্টেশন। যেদিকে চোখ যায়, সব নতুন নতুন স্থাপনা। পাবনা শহর থেকে রিকশা বা নিজস্ব পরিবন যোগে খুব সহজেই সেখানে পৌছানো যায়।

০৫. গজনার বিল (খয়রান ব্রীজ) : গাজনার বিলের মাঝের সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন খয়রান ব্রিজ। সুজানগর উপজেলা থেকে সড়কপথে সিএনজি যোগে প্রায় ৭ কি.মি. খয়রান ব্রিজের পূর্ব দিকে বিল গাজনায় যাওয়া যায়।

০৬. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অবস্থিত। পাবনা জেলা শহর হতে আনুমানিক ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। আনুমানিক ০১(এক) ঘন্টা সময়ে পাবনা জেলা শহর হতে সড়কপথে দাশুরিয়া মোড় হয়ে যাওয়া যায়।

০৭. চলনবিল : পাবনা জেলা শহর থেকে অটোরিকশা/সিএনজি/নিজ পরিবহন যোগে চাটমোহার/ভাঙ্গুড়ায় যাওয়া যায়। সেখান থেকে ৫ কি.মি. দুরত্বে থেকে টলন বিলে পৌছা যায় খুব সহজেই।

০৮. লালন শাহ সেতু : পাবনা জেলা সদর হতে ঈশ্বরদী উপজেলার দুরত্ব আনুমানিক ২৫-৩০ কিলোমিটার। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল। ঈশ্বরদী উপজেলার ১টি ইউনিয়ন ও গ্রামের নাম পাকশী। পাকশী রুপপুর প্রকল্পের পাশে এবং পদ্মা নদীর তীরে পাকশী লালন শাহ সেতু অবস্থান। উক্ত স্থানে আনুমানিক ০১(এক) ঘন্টা সময়ে পাবনা জেলা শহর হতে সড়কপথে দাশুরিয়া মোড় হয়ে যাওয়া যায়।

০৯. ক্ষেতুপাড়া জমিদার বাড়ী : সাথিয়া হইতে ৭ কি.মি দুরেক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। সাথিয়া থেকে সিএনজি করে ১৫ টাকা ভাড়া নেবে সাথিয়া টু চিনাখড়া রোডে। চিনাখড়া হতে ৩ কি. মি দুরে এবং ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে।

১০. জোড় বাংলা মন্দির : পাবনা শহর হতে রিক্সা/অটোরিক্সা/সিএনজি/নিজস্ব পরিবহন যোগে ১৫-২০ মিনিটে যাওয়া যায়।

১১. ভাড়ারা শাহী মসিজদ : পাবনা শহর হতে ২০ মিনিট দুরত্বে সিএনজি/নিজস্ব পরিবহন যোগে যাওয়া যায়।

১২. কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতি সংগ্রহশালা : পাবনা শহর হতে রিক্সা/অটোরিক্সা/সিএনজি/নিজস্ব পরিবহন যোগে ১০-১৫ মিনিটে যাওয়া যায়।

১৩. প্রমথ চৌধুরীর পৈত্রিক নিবাস : প্রমথ চৌধুরীর পৈত্রিক নিবাস পাবনা শহর হতে প্রায় ৩৪-৩৫ কি:মি: দুরত্বে চাটমোহর উপজেলা হরিপুরে অবস্থিত। সিএনজি/নিজস্ব পরিবহন যোগে ১.৫০-২.০০ ঘন্টায় উক্ত যায়গায় যাওয়া যায়।

১৪. তাড়াশ জমিদার ভবন : পাবনা শহেরর প্রাণকেন্দ্রে আব্দুল হামিদ রোড সংলগ্ন গোপাল্পুর মৌজায় কারুকার্য খচিত দ্বিতল ভবনটি অবস্থিত

১৫. পাবনার এডরুক লিমিটেড : পাবনা শহর হতে রিক্সা/অটোরিক্সা/সিএনজি/নিজস্ব পরিবহন যোগে ১০-১৫ মিনিটে যাওয়া যায়।

১৬. পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প : পাবনার অন্যতম তাঁতপ্রধান এলাকা দোগাছী, সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া, আটঘরিয়া ইত্যাদি । উক্ত স্থানে সড়ক পথে পাবনা জেলা শহর হতে সিএনজি/বাসযোগে সহজে যাওয়া যায় ।

১৭. চাটেমাহর শাহী মসিজদ : চাটমোহর শাহী মসজিদ পাবনা শহর হতে প্রায় ৩৪-৩৫ কি:মি: দুরত্বে চাটমোহর উপজেলার বাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। সিএনজি/নিজস্ব পরিবহন যোগে ১.৫০-২.০০ ঘন্টায় উক্ত যায়গায় যাওয়া যায়।

১৮. সুজানগর আজিম চৌধুরী জমিদার বাড়ি : পাবনা হতে ১৯ কি.মি. দুরে সিএনজি/নিজ পরিবহন যোগে সুজানগর যাওয়া যায়। সুজানগর উপজেলা থেকে সিএনজি যোগে পোড়াডাঙ্গা বাজার হয়ে চিনাখড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিকে পাবনা নগরবারী মহাসড়কের পার্শে দুলাই বাজারের ৫০০ মিটার দক্ষিন দিকে রিক্সা/ভ্যান যোগে জমিদার বাড়ী যাওয়া যায়।

১৯. তাঁতীবন্দ জমিদার বাড়ি : পাবনা হতে ১৯ কি.মি. দুরে সিএনজি/নিজ পরিবহন যোগে সুজানগর যাওয়া যায়। সুজানগর উপজেলা থেকে সি.এন.জি/ভ্যান যোগে উত্তর দিকে প্রায় ৫ কি.মি. দুরে তাঁতিবন্দ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন জমিদার বাড়ী যাওয়া যায়।

২০. ঈশ্বরদী রেল জংশন : বাংলাদেশের যে কোন জায়গা হতে রেল পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে অথবা পাবনা শহর হতে ২৬ কি.মি. দুরত্বে ঈশ্বরদী বাস টার্মিনালে নেমে সিএনজি/নিজস্ব পরিবহন যোগে যাওয়া যায়।

২১. আটঘরিয়া বংশীপাড়া গ্রামের চন্দ্রাবতীর ঘাট : পাবনা হতে ১২ কি.মি. দুরে সিএনজি/নিজ পরিবহন যোগে আটঘরিয়া যাওয়া যায়। সেখান থেকে ১১ কি.মি. দুরত্বে মাঝপাড়া ইউনিয়নের ক্ষিদিরপুর গ্রামে চন্দ্রাবতীর ঘাটে যাওয়া যায়।

২২. শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ (আশ্রম-মন্দির): যে কোন স্থান হতে বাস অথবা নিজস্ব পরিবহন মারফত পাবনা বাস টার্মিনাল আগমন। বাস টার্মিনাল হতে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ(আশ্রম-মন্দির) ৭ (সাত) কি:মি: দুরে অবস্থিত। উক্ত পথ বাস টার্মিনাল হতে রিক্সা/অটোরিক্সা/সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো আছে।

এছাড়াও পাবনার দর্শনীয় কবি বন্দে আলী মিয়ার বাড়ি, এডওয়ার্ড কলেজ, পাকশী রিসোর্ট, ঈশ্বরদী ইপিজিড, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, ঈশ্বরদী সুগার মিল, ঈশ্বরদী ঈক্ষু গবেষণা কেন্দ্র,  ঈশ্বরদী ডাল ও তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্র, শেখ রাসেল শিশু পার্ক, কাঞ্চন পার্ক (সুজানগর), দুবলিয়া মেলা (দুর্গা পুজার সময়) ও বড়াল ব্রীজ পাবনার ভ্রমণ স্পট হিসেবে উল্লেখ্য যোগ্য।