সরব হয়ে উঠেছে পাবনার তাঁতপল্লি

তাঁতশিল্প বিপর্যয়ের পর আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ঈদের বাজার ধরতে পাবনার তাঁতপল্লি নতুন উদ্যোমে এখন দিনরাত কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই বছর করোনার বিধিনিষেধের কারণে তাঁতমালিকদের ব্যবসা না থাকলেও এবার বাজার চাঙা বলে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে।

তাঁতপ্রধান উপজেলা পাবনার ঈশ্বরদী, সুজানগর, আটঘরিয়া, বেড়া, সাঁথিয়ায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কারখানার মালিক ও শ্রমিকদের কোলাহলে সরব হয়ে উঠেছে তাঁতপল্লি। পুরুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নারীরাও নলীভরা, সুতাপারি করা, মাড় দেওয়া ও রঙ-তুলিতে নকশা আঁকাসহ কাপড় বুনতে সহযোগিতা করছেন। এ অঞ্চলের তাঁতপল্লি­­তে উন্নতমানের জামদানি, সুতি কাতান, চোষা, সুতি জামদানি, বেনারসি ও শেট শাড়ির পাশাপাশি মোটা শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস ও থান কাপড় তৈরি হচ্ছে।

বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম দক্ষিণ মহল্লার এক তাঁত কারখানার মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার দুই বছর আমাদের কারখানার উত্পাদিত লুঙ্গির চাহিদা কমে গিয়েছিল। কারখানার ২৪টি তাঁতের মধ্যে ১৫টিই বন্ধ করে রেখেছিলাম। কিন্তু করোনার সংকট কেটে গেলে সেগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উত্পাদন শুরু করেছি। গ্রাফিকস ডিজাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন নতুন নতুন নকশার শাড়ি-লুঙ্গি নিয়ে বাজারে হাজির হচ্ছি। এতে করে ভালো দামে শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করতে পেরে আশার আলো দেখছি।’

সদর উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামের তাঁতি মতিন মিয়া বলেন, ‘এখানে বছর দুই আগেও হাজার তিনেক তাঁত চালু ছিল। এখনো অর্ধেকের বেশি তাঁত বন্ধ। আমিও দীর্ঘদিন তাঁত বন্ধ রেখেছিলাম। ঈদ উপলক্ষ্যে টাকা ঋণ নিয়ে ১০টা তাঁত চালু করেছি।’

পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী হাবিবুল্লাহ জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আতাইকুলা হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে এ অঞ্চলের তাঁতশিল্প প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। দামও গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

পাইকারি বিক্রেতা আব্দুস সামাদ জানান, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, চিটাগাংসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আতাইকুলা হাটে পাইকাররা আসছেন। প্রতিদিনই অর্ডার আসছে। করোনার দুই বছর মন্দার পর ঈদকে সামনে রেখে কাপড়ের বাজার চাঙা হয়ে উঠেছে। মনিরামপুর গ্রামের তাঁতি শফিকুজ্জামান শফি বলেন, বাজারে কাপড়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে তারা কাপড়ের উত্পাদন বাড়াতে পারছেন না। তাঁতশ্রমিক আব্দুস ছালাম, আফজাল হোসেন, লোকমান, সালেক, রতন সাহা, রায়হান, গাজীউর রহমান, আব্দুস সালাম, রাঙ্গা, তোরাব আলী ও আব্দুর রহিম জানান, করোনার দুই বছর কারখানা বন্ধ ছিল। আবার কারখানা চালু হয়েছে, দিনরাত পরিশ্রম করছি।

পাবনা জেলা তাঁতি সমবায় সমিতির সভাপতি কামরুল আনান রিপন জানান, পাবনার তাঁতশিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারি সাহাঘ্য-সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে তাঁতিদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্হা করলে বন্ধ হওয়া তাঁতগুলো আবার সচল হবে। পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, তাঁতিদের সহায়তার ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে সহায়তা করা হবে।