পাবনার করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা হয় সিরাজগঞ্জে

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা পাবনা। ২০০ বছরের এই জেলাটি বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণিভুক্ত জেলা। অথচ পাবনাসহ বিভাগের পাঁচ জেলাকে রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের আরটিপিসিআর ল্যাব থেকে কভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসের নমুনা (থর্ট সোয়াপ) টেস্ট করতে হচ্ছে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংগৃহীত কভিড স্যাম্পল এখন পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সিরাজগঞ্জের শহিদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও এখানকার সব স্যাম্পল রাজশাহীতে পাঠানো হতো। স্যাম্পলের রিপোর্টগুলো পুনরায় পাবনায় ফিরতে প্রায় পাঁচ দিন চলে যায়।

আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপন নিয়ে কথা বলেন পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত চিঠি সময়মতো জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পাবনায় সদ্য যোগ দিয়েছি, তাই এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস আগে জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মো. খুরশিদ আলম পাবনায় এসেছিলেন। তখন মেডিকেল কলেজে একটি ল্যাব সংস্থাপনের প্রাথমিক দিক নির্দেশনা ও আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। তবে এখনও স্থাপন করা হয়নি কোনো ল্যাব। এ কারণে সব টেস্ট করানো হচ্ছে সিরাজগঞ্জে।

গত বুধবার সরেজমিনে পাবনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটিতে টাইলস বসানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ নেই। অন্যসব কাজ চলমান। এ সময় পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. বুলবুল হাসান বলেন, সর্বপ্রথম রাজশাহী মেডিকেল কলেজেও আমি কভিড স্যাম্পল টেস্টের জন্য আরটি পিসিআর ল্যাব প্রতিস্থাপন করার উদ্যোগ নিই। পাবনা মেডিকেল কলেজেও নিজ উদ্যোগেই ল্যাবটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। দুই মাস আগে এর কাজ শুরু হয়। শুরুতে ল্যাবটি দোতালায় প্রতিস্থাপনের কথা ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের ওখানে ক্লাস হয়। তাই নিচতলায় ল্যাবের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অধ্যক্ষ বলেন, কাজটা গণপূর্ত অধিদপ্তরের। আমরা জায়গা দিয়েছি। কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য গণপূর্তে একাধিক বার চিঠি দিয়েছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. প্রসেনজিৎ বলেন, গত দুই সপ্তাহের রিপোর্টে ১৫০ জনের প্রায় ৭৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। চলমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণের হার গড়ে ৫০ শতাংশ বলা যায়।

৬ এপ্রিল কভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীর বিস্তারিত তথ্য নিতে গিয়ে কথা হয়, পাবনা সিভিল সার্জন কর্যালয়ের প্রধান সহকারী কর্মকর্তা অংশু পতি বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানান, সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৮৩৫ জন্য পজিটিভ হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৬৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজন আক্রান্ত ও পাঁচজন সুস্থ হয়েছেন।