বৈধ দাবি করে পাবনার ইছামতি নদীর পাড়বাসীদের ৪ দফা দাবি

নিজের বৈধ বসতি দাবি করে ৪ দফা দাবি জানিয়েছেন শহর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাবনার ইছামতি নদীর পাড়ে বসবাসরত এলাকাবাসীর একটি সংগঠন। রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলোনায়তনে ইছামতি নদীপাড়ের বৈধ বসতিদের স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এসময় উপস্থিত গণমাধ্য কর্মীদের সামনে লিখিত বক্তব্য ও উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সধারন সম্পাদক মোঃ আল-মাসুদ রিজভী ম্যাক্রিম ও গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের পক্ষে সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমান মিন্টু, অইনগত বিষয়ে অবগত করেন ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রওশন আলম খান রাসেল। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সদস্য মোঃ কামরুল ইসলাম,অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, অ্যাড, মোঃ লুৎফররহমান খান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পূর্ব পুরুষের বসতভিটায় আজ আমরা হুমকির সস্মুখীন হয়েছি। পাবনার ইছামতি নদীর খনন কার্য করতে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের সাথে বৈধ দখলদারদেরও উচ্ছে করছে জেলা প্রশাসক ও পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কৃর্তপক্ষ। কোন প্রকারের নোটিশ বা আলোচনা করা হয়নি এই উচ্ছেদ কার্যক্রম করার আগে। আমরা যারা শতবর্ষ ধরে সরকারের সকল খাজনা খারিজ পরিশোধ করে বৈধ কাগজাদি নিয়ে যুগযুগ ধরে স্থাপনা নির্মান করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছি তারা আজ মানবেতর ও দুশ্চিন্তগ্রস্থ হয়ে অসহায় দিনযাপণ করছি।

গত বছরে শেষ দিকে পাবনা শহরের মধ্যদিয়ে বয়ে চলা ঈশা খা’ঁর আমলে খননকৃত ইছামতি নদী এই শহরের প্রাণ। আমরা ইছামতি নদী খনন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছি না। আমরা আমাদের বৈধ সম্পদের সঠিক সমাধান চাইছি। এই নদী খনন করা নামে ইতপূর্বে ৮ থেকে ৯ বার অর্থ বরাদ্দ হয়েছে কিন্তু আমরা দেখেছি শুধু লোক দেখানো কাজ হয়েছে। হরি লুট হয়েছে নদী খনের অর্থ।

তিনি বলেন, আমরা আইনকে সম্মান করি অবশ্যই নদী খনন হবে কিন্তু তার আগে তার সীমানা নির্ধারন করতে হবে। আমরা যারা বৈধভাবে বসবাস করছি তাদের ক্ষতি করে উচ্ছেদ কাজ প্রশাসনসহ সরকার করবেননা। আমরা অপনাদের মাধ্যমে সরকার প্রধানকে জানাতে চাই, ১৯৪৫ সালে সিএস পেটি/ দিয়ারা সরকারি গেজেট আকারে চুরান্তভাবে প্রকাশিত। ১৯৬২ সালে এস এ রেকর্ড সূত্রে এই সমস্থ ভূমি নদী পাড়ের বসতিদের নামে চূরান্ত ভাবে প্রকাশিত। স্বাধীনতার পরে সরকার আর এস জরিপ কাজ শুরু করে সেখানেও আমাদের বসতিদের নাম চুরান্তভাবে প্রস্তু হয়ে ১৯৮৫ সালে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

সম্প্রতি ২০০৭ সালে বিএস আর এস-২ রেকর্ড শুরু হয়ে ২০১৯ সালে চুরান্ত ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা যারা নদীপাড়ের বৈধ ভাবে বসত করছি আমাদের কাছে সেই বৃটিশ আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চারটি রেকর্ড হয়েছে। সেই আলোকে সম্প্রতি আমাদের সকল জায়গার খাজনা খারিজ প্রদান করেছি। তবে কিভাবে আমরা অবৈধ। আইন সকলের জন্য সমান ভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দ্বৈত আইন প্রয়োগ করলে সেটি কখনো মঙ্গল বয়ে আনে না। সম্প্রতি ভুমি মন্ত্রনালয়য়ের সর্বশেষ তথ্যে ভূমির ডিজিটাল রেকর্ডের ক্ষেত্রেও সিএস পেটি/ দিয়ারা এস এ ও আর এস জরীপের খতিয়ানে ডিজিটাল রেকর্ড ইলেট্রনিক মিডিয়াতে পাওয়া যাবে এবং তা বৈধ বলে গন্য হবে ঘোষনা করেছেন।

তাই আমাদের সর্বশেষ চারদফা দাবী তুলে ধরেন ইছামতি নদীবারের দাবীকৃত বৈধ দখল দারেরা। দাবী সমূহ হলো, আইনগত পক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদীপারে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখা, সরকারের প্রয়োজন হলে বিধি মোতাবেক বৈধ বসতিদের জায়গা অধিগ্রহন করা, উচ্ছেদ কার্যক্রম বা যেকোন প্রক্রিয়া করা পূর্বে বৈধ বসবাসরত জায়গার মালিকদের সাথে আলোচনা করা এবং পূর্বে ইছামতি নদীপারের অবৈধ বসতিদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে সেই তালিকার যাচাই বাছাই করে সীমানা নির্ধারন করে তালিকা প্রস্তুত করার আহবান জানান প্রশাসনের প্রতি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমিমন্ত্রণালয়সহ পানি উন্নয়বোর্ড নদী কমিশনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীয় সুদৃষ্টি কামনা করেন বিপদগ্রস্থ্য নদীপাড়ের বসবাসরত সাধারন মানুষ।