পাবনায় সুবিধা করতে না পেরে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধা দেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

পাবনার সুজানগর উপজেলার হাটখালীতে বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় করতে না পেরে বিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্দ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ চান তারা।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক ও নিয়োগপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটখালির নুরুদ্দিনপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য গত ২৭ জুলাই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৪টি চতুর্থ শ্রেণীর পদে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তার আগ থেকে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চেষ্টা করেন ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ খান ও তার সহযোগীরা। অনৈতিক উপায়ে সহযোগিদের নিয়োগে চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে তিনি কয়েকজন সহযোগীদের আবেদন করান এবং পরবর্তীতে শিক্ষা অফিসে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেন। এতেও ব্যর্থ হয়ে বিদ্যালয়ের সামনে ভারাটে লোকজন দিয়ে নিজেই মানববন্ধন করান। এরপর শিক্ষা অফিস নিয়োগ স্থগিত করে। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সামনে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে মানববন্ধন হয়। সেই মানববন্ধনের প্রতিবাদে পাল্টা মানববন্ধন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন দাতা সদস্য বলেন, ‘আমরা জমি দিয়ে টাকা-পয়সা দিয়ে মানুষের কাছে ভিক্ষা করে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। গত দুই বছর আগে এমপিওভুক্ত হয়েছে। এরপর বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ খান, কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এছাড়াও গত ইউপি নির্বাচনে আমরা তার পক্ষে নির্বাচন করেনি, আমাদের স্থানীয় একজন প্রার্থী ছিল, তার পক্ষে কাজ করেছিলাম। এসবের জন্য চেয়ারম্যান আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। তিনি দুই-একজন প্রার্থীকে দিয়ে শিক্ষা অফিসে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ করেছে। সে এই বিদ্যালয়টি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ খান বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি মানববন্ধন হচ্ছে। তখন মানববন্ধনের লোকজন আমাকে দাঁড় করিয়ে আমার কাছে অভিযোগ দেয়। তাদের দাবি- নিয়োগ নিয়ে স্কুলের জমি কেনার জন্য ২৪ লাখ টাকা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তারাও প্রমাণ করতে পারেনি, আমার কাছেও প্রমাণ নেই। চেষ্টা হচ্ছে এমন কথা আমি শুনেছি। কিন্তু আমার ভোট করেনি আর সভাপতি হতে পারেনি বলে নিয়োগ বন্ধ করেছি- এমন কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘যেখানো পরীক্ষা ও নিয়োগই হলো না সেখানে দুর্নীতি হলো কিভাবে। তাদের দাবি যদি হতো নিয়োগপ্রক্রিয়াটা যেন সুষ্ঠুভাবে হয়। কিন্তু তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পরীক্ষাটা বন্ধ করলো। এতে আসলে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হলো আরকি। এখন আমার আর কি করার আছে? শিক্ষা অফিসও অনিবার্য কারণ দেখিয়ে নিয়োগ স্থগিত করলো। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। এখন তারাই বলতে পারবে কেন তারা নিয়োগ বন্ধ করেছে।’

পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার রুস্তম আলী হেলালী বলেন, ‘আমার কাছে একটি অভিযোগ দেয়ার হয়েছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। তারপর যদি নিয়োগ দেয়ার মতো হয় তাহলে ডিজির প্রতিনিধির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করবো।’

error: কাজ হবি নানে ভাই। কপি-টপি বন্ধ