কিছু মানুষের জন্য পদ্মা সেতুর নিচে ফেরি-লঞ্চ রাখা উচিত: পাবনায় রহমান

কিছু মানুষ গোস্বা করে পদ্মা সেতু পার হবে না। এদের জন্য কিছু লঞ্চ-ফেরি রাখার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসবেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় আসলে উন্নয়নে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াকেও ছাড়িয়ে যাবে।’

শনিবার (১১ জুন) দুপুরে পাবনার সুজানগর নিজাম উদ্দিন আজগর আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুর রহমান বলেন, ‘কিছু মানুষ গোস্বা করে পদ্মা সেতু পার হবে না। এদের জন্য কিছু লঞ্চ-ফেরি রাখার প্রয়োজন আছে। খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাহায্য, উন্নয়ন সাহায্য বন্ধ করেছিল। বিদেশি সকল উন্নয়ন সহযোগীদের বললেন- বাংলাদেশে কোন উন্নয়ন করবেন না এবং বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থ ফেরত নিয়ে গেল। তাদের অভিযোগ- এখানে ষড়যন্ত্র হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে! অথচ যে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়নি, অর্থও আসেনি, তাহলে দুর্নীতি কিভাবে হল? তাদের ষড়যন্ত্রে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করব। কিন্তু আমাদের বিশ্বনেত্রী বললেন- আমাদের নিজেদের অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু করব এবং সেই পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। পদ্মা সেতু নিয়ে সেদিন শেখ হাসিনাকে যে অসম্মান করা হয়েছিল আজকে পদ্মা সেতু তৈরি করে তাদেরকে একটি শিক্ষা দিলেন এবং মধুর প্রতিশোধ নিলেন শেখ হাসিনা। সকল ষড়যন্ত্রের পর যখন পদ্মা সেতু হয়ে গেল তখন সেই ষড়যন্ত্রকারী বলল যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে সে তুলনায় পানি পথে যাওয়াই ভাল ছিল। এজন্য তাদের পারাপারের জন্য কিছু লঞ্চ-ফেরি সেখানে রাখা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে জনগণ আবারও ক্ষমতায় আনবে। বাংলার জনগণ ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনলে এই দেশ সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে, মালয়েশিয়াকেও ছাড়িয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের এমন কোন গ্রাম নেই যে গ্রামে বিদ্যুৎ নাই, রাস্তাঘাট নাই, বিধবা ভাতা পান না। বিএনপির ঘোষণা করেছে- ‘আমরা নির্বাচনে যাবো না, নির্বাচন হতে দেবো না’, আমি তাদের বলি- ২০১৩ সালে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে ছিল। সেই বিএনপি আবারও হুমকি দিচ্ছে আন্দোলন করে রাজপথ দখল করে নির্বাচন হতে দেবে না, এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবে। এজন্য আমার হাসি পায়। আমি তাদেরকে বলি- তোমরাতো ২০১৩-১৪ সালে রাজপথ দখল করেছিলে। মেঘে মেঘে যত বেশি ঘর্ষণ হয় ততো গর্জন হয়। সোনা যত বেশি পড়ানো হয় সোনা আরো বেশি খাঁটি হয়। তাই আগামী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যদি চোখ রাঙানো হয় তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে তাদের চোখ উপড়ে ফেলে দেয়। ‘

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে হবে এবং সেই নির্বাচনে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা,  এটাই হলো সত্য। আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই নির্বাচনে বাংলার জনগণ শেখ হাসিনাকে আবারও ম্যান্ডেট দিয়ে আবারও ক্ষমতায় আনবে। আর এই নির্বাচনে আসলে বিএনপি ২০০৮ সালে তো ২৭টার মতো পেয়েছিল এবার তাদের কি অবস্থা হবে আল্লাহই ভালো জানেন? ২৭’র হয়তোবা ৭ থাকবে কিন্তু এর আগে-পিছে কিছু থাকবে না।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘১/১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাইনাস টু ফর্মুলার আড়ালে কেবলমাত্র আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে  মাইনাস করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। তাকে ষড়যন্ত্র করে দেশে আসতে বাধা দেয়া হয়েছিল। সেদিন কোন বিমান শেখ হাসিনাকে বহন করতে পারবে না, কোন ট্রাভেল এজেন্সি টিকিট পর্যন্ত দিচ্ছিল না। কিন্তু শেখ হাসিনা বললেন- আমার শরীরে শেখ মুজিবের রক্ত প্রবাহিত আমি বাংলার মাটিতে ফিরে যাব, কোন গতিপথ আমাকে আটকাতে পারবে না। এবং তিনি কথা রেখেছিলেন এবং বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে এসেছিলেন।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা কোন ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কোন ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধুর কন্যাও কোন ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বিডিআর হত্যার ঘটনা মোকাবেলা করেছেন। তারপর থেকেই বঙ্গবন্ধুকন্যা হতদরিদ্রদের মাঝে মুখে হাসি ফোটানো জন্য কাজ করছেন। যোদ্ধাদের মূল্যায়ন,‌ বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, বিদ্যুৎ রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপহার দিলেন। বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র দেশ, যে দেশ শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশে রূপান্তরিত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আমাদের দেশে করোনা হানা দিল। তখন আমাদের সুশীলরা বলা শুরু করলো- এই সরকার করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ হবে, লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাবে। কিন্তু শেখ হাসিনা বললেন- আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা বেঁচে থাকতে বাংলার মানুষকে মরতে দেব না। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে কি হয়েছিল আপনারা জানেন কিন্তু আমাদের দেশে জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে কারোনা মোকাবেলা হয়েছে। তিনি বিনা পয়সায় প্রত্যেকটি মানুষক করোনার টিকা দিয়েছেন।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ একবেলা খাওয়া বাদ দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ৪০ বছরের মধ্যে এই প্রথম মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সেখানে জননী শেখ হাসিনা এতো মন্দা এতো বিপর্যয়ের মধ্যেও বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৫.৬ এর মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।’

এদিন দুপুর ১টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক রেজাউল। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল ওহাবের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান, পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলি, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান উজ্জ্বল প্রমুখ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আগামী ৩ বছরের জন্য সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হিসেবে সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল ওহাব এবং উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীনকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয় ।