পাবিপ্রবিতে ভিসির স্বেচ্ছাচারিতায় পদোন্নতি আটকে রাখায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনশন

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারী ও অনিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে পদোন্নতি আটকে রাখা এবং শিক্ষকদের হয়রানি ও জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২১ মার্চ) সকাল দশটা থেকে পাবিপ্রবি প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

অনশনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, পাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম আব্দুল আলীমের পদোন্নতি আটকে রেখে তার বিরুদ্ধে মামলা ও চাকুরীচ্যুত করার হুমকি দিয়েছেন। অবিলম্বে ড. আব্দুল আলিমের পদোন্নতি দেয়া না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান তারা।

অনশনকারীরা আরো জানান, উপাচার্য রোস্তম আলী যোগদানের পর থেকে লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছেন। তার এসবের প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের কথায় কথায় কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদানসহ নানাভাবে হয়রানি, জুলুম-নির্যাতন ও মানসিক টর্চার করে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়ম করেছেন।

পাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আওয়াল কবির জয় বলেন, ‘উপাচার্য রোস্তম আলী জামায়াত-বিএনপির এজেন্টা বাস্তবায়ন করতেই বেছে বেছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শিক্ষকদের হয়রানি করে চলেছেন। তিনি জরুরি রিজেন্ট বোর্ড ডেকে মাত্র ১০ মিনিট সভা করে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে পদোন্নতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের নেতা ড. কামরুজ্জামান ও জামায়াত নেতা সোবহান মওলানার নাতনী জামাই ড. হারুন অর রশীদসহ জিয়া পরিষদের কয়েক নেতাকে। অথচ ভুয়া তদন্ত কমিটির অজুহাতে ভাষা-আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক অন্তত ১০ খানা গবেষণাগ্রন্থের রচয়িতা ড. এম আবদুল আলীমের অধ্যাপক পদের পদোন্নতি অটকে রেখেছেন প্রায় দেড় বছর।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ড. এম আবদুল আলীম বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম  রোস্তম আলীর কোটি  কোটি টাকা অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ বের হতে শুরু করায় তিনি শিক্ষকদের মুখ বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এসবের প্রতিবাদ করায় তিনি আমাকে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করছেন। এব্যাপারে পাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম  রোস্তম আলীর সঙ্গে বারবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। উল্লেখ্য, উপাচার্য রোস্তম আলীর অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে দুদক ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষের বক্তব্য:
এদিকে দুপুরে পাবিপ্রবির জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ফারুক হোসেন চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাযার্লয়ের নির্দেশ মোতাবেক ড. আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে রিজেন্ট বোর্ড কতর্ৃক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসার পর তঁার প্রমোশনের বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ড পরবতর্ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলরের ব্যক্তিগত কোন বিষয় নেই। তাঁকে দোষারোপ করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করে, চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ব্যাহত করাই আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুরোধ জানিয়েছে।