নাটোর থেকে পাবনায় প্রবেশে বিধিনিষেধ, সীমানায় চেকপোস্ট

পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পাবনার ঈশ্বরদী ও চাটমোহর উপজেলায় দুই জেলার সীমানা লাগোয়া রাস্তাগুলোতে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুই উপজেলা প্রশাসন পৃথক বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুই জেলায় চলাচলে বিধিনিষেধ থাকবে। নাটোর থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আসা শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে আসতে হবে।

চাটমোহর উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মো. সৈকত ইসলামের সভাপতিত্বে জরুরি সভা হয়। সভায় চাটমোহরের সঙ্গে নাটোর জেলার সীমানা লাগোয়া ছাইকোলা, হরিপুর ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের প্রবেশপথ এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সীমানা লাগোয়া হান্ডিয়াল ইউনিয়নের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় ইউএনও মো. সৈকত ইসলাম বলেন, উপজেলায় আপাতত লকডাউনের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে নাটোর জেলায় করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় চাটমোহরের বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে দুই জেলার বাসিন্দাদের অবাধ চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুই জেলায় চলাচলে বিধিনিষেধ থাকবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন, চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুতালিবসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা।

এদিকে এর আগেই নাটোরের সীমানা লাগোয়া পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসনও দুই জেলার অবাধ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সঙ্গে উপজেলার সারা, পাবনা-লালপুর সড়ক, পাবনা-নাটোর সড়ক ও রেলজংশন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়।

সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস প্রথম আলোকে বলেন, পার্শ্ববর্তী জেলায় করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলেও ঈশ্বরদীতে এখনো করোনার তেমন বিস্তার দেখা যায়নি। তাই সতর্কতামূলক কিছু সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট লোকজনকে করোনামুক্ত রাখতে প্রকল্পে কাজ করা নাটোরের শ্রমিকদের ঈশ্বরদীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। করোনার প্রকোপ না কমা পর্যন্ত চেকপোস্ট থাকবে।