দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ কয়েকটি লঞ্চডুবি

রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে।

সম্প্রতি সময়ে এটি ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা। এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে দেশের আলোচিত লঞ্চ দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় শতাধিক যাত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছিল।

আসনু জেনে নিই প্রাণহানির হিসাবে দেশের নৌপথে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনার কয়েকটি-

পিনাক-৬
২০১৪ সালের ৪ আগস্ট  মুন্সিগঞ্জের মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে মাওয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। লঞ্চটি শরীয়তপুরের কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া লঞ্চঘাটে যাচ্ছিল।

বাংলাদেশের নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, ওই লঞ্চটি তোলা সম্ভব হয়নি, এবং এর ধ্বংসাবশেষও কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, আর ৫০ জন যাত্রীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। বাকীরা সাঁতরে এবং জেলেদের সহায়তায় তীরে উঠতে পেরেছিলেন।

এমভি নাসরিন-১
দেশের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি। কারণ, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৬শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এমভি নাসরিন-১ লঞ্চটি ২০০৩ সালের ৮ জুলাই বাংলাদেশের চাঁদপুরে মেঘনা নদীর নিকটে ডুবে যায়।

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালবোঝাইয়ের কারণে লঞ্চটির তলা ফেটে গিয়েছিল।

ডুবে যাওয়ার সময় লঞ্চটিতে কত যাত্রী ছিলেন সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। তবে ওই দুর্ঘটনায় সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে ছয়শো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

এমভি সালাউদ্দিন-২
২০০২ সালের ৩ মে চাঁদপুরের ষাটনলের মেঘনা নদীতে ডুবে যায় ঢাকা-নুরাইনপুর-কালাইয়া -চরকাজল -রাঙ্গাবালীর রুটের সালাউদ্দিন-২ নামের লঞ্চটি। এতে প্রায় ৪ শতাধিক যাত্রী নিহত হয়

ওই দুর্ঘটনার পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের করা একটি তদন্ত কমিটি নকশামতো লঞ্চ নির্মাণ না করায় মালিককে এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য মাস্টারকে অভিযুক্ত করে। এতে ওই লঞ্চের মালিককে জরিমানা এবং মাস্টারকে চাকরীচ্যুত করা হলেও অন্যদের শাস্তি হয়নি।

এমভি রাজহংসী
পবিত্র ঈদুল আজহার রাতে ২০০০ সালের ২৯ ডিসেম্বর চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীতে ‘এমভি জলকপোত’ ও ‘এমভি রাজহংসী’ নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষ হয়।

এতে রাজহংসী লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়, সে সময় ওই লঞ্চের ১৬২ জন যাত্রী নিহত হয়েছিলেন।

অ্যাটলাস স্টার
১৯৮৬ সালে অ্যাটলাস স্টার নামে একটি লঞ্চ ডুবে ২০০ জন যাত্রী মারা গিয়েছিলেন। লঞ্চটি ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে ডুবে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

এছাড়াও দেশের ইতিহাসে আরও বেশ কয়েকটি নৌদুর্ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০০৫ সালে একটি ফেরী ডুবে গিয়ে ১১৮ জন যাত্রী নিহত হয় এবং ২০০৫ সালে এমএল মিতালি ও এমএল মজলিশ নামে দুইটি ছোট লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ডুবে গিয়ে প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

কোস্ট বিডির মি. হক বলছিলেন, ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত নৌদুর্ঘটনার জন্য দেশে পাঁচশো’র বেশি মামলা চলছে। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র একটি মামলার বিচার হবার নজির রয়েছে।