দুর্নীতির ব্যাপকতাই বিসিএসের প্রতি মোহ তৈরি করেছে

সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাই এখন পরীক্ষা নির্ভর। এরই ধারাবাহিকতায় বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে আজকের এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে অধিক মাতামাতি সমাজের সার্বিক অধঃপতন। বলছিলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দুর্নীতির ব্যাপকতাই বিসিএসের প্রতি মোহ তৈরি করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে মুখোমুখি হন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

সাক্ষাৎকারের একাংশে বলেন, উপর্যুপরি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সিঁড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যা ক্রমাগতভাবে বিসিএস নামের পরীক্ষায় ধাবিত করা হয়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা টিউশনির মধ্য দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। গাইড বই, কোচিংয়ের মধ্য দিয়ে তারা শিখছে। এসএসসি পরীক্ষার আগেই তারা বিসিএস প্রস্তুতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। এটিকে সুস্থ ধারার শিক্ষা, সমাজ বলে না।

আমি বিসিএস পরীক্ষাকে খাটো করে দেখছি না। কিন্তু মেডিকেল শিক্ষার্থীরা যখন প্রশাসন ক্যাডারের সেরা ২০-এ অবস্থান করে এবং তা নিয়ে সবাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, তখন অবাক হই। আমি কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই না। কিন্তু বহু আগের গবেষণায় এসেছে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য সরকার ৮ লাখ টাকা ব্যয় করে। এই ব্যয় এখন কয়েকগুণ বেড়েছে হয়তো। এ টাকা গরিব মেহনতি কৃষকের ঘাম পানি করা ট্যাক্স থেকে আসা। সে তো জনগণের সেবা করার মানসিকতা নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। শতকরা ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী এখন বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। অথচ দুর্বৃত্তায়ন না থাকলে ২০ ভাগ শিক্ষার্থীও এ পরীক্ষায় অংশ নিত না।’

তিনি বলেন, ‘সমাজ, রাজনীতির সর্বত্রই দুর্নীতি গ্রাস করছে। অনিয়মই নিয়ম হয়ে গেছে। করোনাকালেও আমরা ভয়ংকর দুর্নীতি হতে দেখছি। কিন্তু বিচার, সাজা কোনোটাই হতে দেখিনি। বরং দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে, সমালোচনা করলে ডিজিটাল আইনে আপনাকে গ্রেফতারও হওয়া লাগতে পারে। টিআইবির সঙ্গে আছি বহুদিন। দেখেছি, দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করা হলেই টিআইবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংসদেও আলোচনা করা হয়। বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদও টিআইবির প্রতিবেদনের সমালোচনা করছেন। এটি হয়তো রাজনীতির কারণেই করতে হয়। কিন্তু এই ট্রেন্ড দুর্নীতিকে আরও উসকে দেয়। প্রশাসনের কর্তারা জানেন, দুর্নীতি করে পার হওয়া যায়। হয়তো সবাই দুর্নীতি করেন না। বিসিএস পরীক্ষায় কেন এত মোহ, এ প্রশ্ন গণমাধ্যমের তোলা উচিত। উত্তরও বের করতে হবে। তাহলেই দেখবেন মোহ কেটে যাবে। তখন এই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকেই বিজ্ঞানী, গবেষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হবে।’