দলীয় পদকে কেন্দ্র করে পাবনায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ

আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনা সুজানগরে সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শামিম হাসানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর ভাবে আহত করেছেন প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা।

বৃহস্পতিবার রাতে সুজানগর বাজারে প্রকাশ্যে এই ঘটনা ঘটে। আহত শামিম সুজানগর উপজেলার তাতিবন্ধ ইউনিয়নের কামারদুলিয়া গ্রামের আব্দুল হাই মৃধার ছেলে। বর্তমানে শামীম পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথাতে অপারেশন করে ৩২টি সেলাই দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামিম হাসান বলেন, পারিবারিক ভাবে আমি এবং আমার পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি। আমি নিজে গত কমিটির সময় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আগামী দিনে আমি সুজানগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা পোষন করায় প্রতিপক্ষ আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে এনে এই হামলা চালায়।

হামলার সময় সুজানগর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সোহাগ, সুজানগর এন এ কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি রেদওয়ান নয়ন, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রবিন হাসান সম্রাট, মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইমনসহ ১০/১২ জন পরিকল্পিত ভাবে আমার উপর হামলা চালালিয়েছে।

হামলাকারীরা এলোপাথারী ভাবে আমাকে কুপিয়ে জখম করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা অবনতী দেখে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

এ বিষয়ে আহত ছাত্রলীগ নেতার পিতা আব্দুল হাই মৃধা মুঠোফোনে জানান, আমার ছেলের অবস্থা খুবই খারাপ। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে ওরা। কি জঘন্যতম কাজ মানুষ হত্যা করে রাজনীতি কতরতে হবে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। যারা এই ঘটনার মদত দিয়েছে তাদেরও বিচার দাবি করছি। এই ঘটনার জন্যে আমি প্রশাসনের নিকট নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।

ঘটনার বিষয়ে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফিারোজ আলী বলেন, এই ধরনরে ঘটনা অবশ্যই কাম্য নয়। যাকে আঘাত করা হয়েছে শামিম হাসান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আর যারা আঘাত করেছে সবাই একই দলের নেতা কর্মী। ওই পরিবার অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আর আমরা দলের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করে এই বিষয়ে তদন্ত করে দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এই জঘন্য ঘটনার নিন্দা জানাই।

এই বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, এই ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং আহত শামিকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। যারা এই কাজটি করেছেন তারা খুবই অন্যায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। এই বিষয়ে অবশ্যই তাদের শাস্তি পেতে হবে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই ঘটনা বিষয়ে আমি শুনেছি, তবে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ থানাতে  লিখিত অভিযোগ করেনি বা মৌখিক ভাবেও বলেনি। প্রাথমিক ভাবে আমি যতটুকু তথ্য পেয়েছি সেটি তাদের অভ্যন্তরিন রাজনৈতিক বিষয়। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।