ট্রাম্পের ‘শান্তি চুক্তি’ প্রত্যাখান জাতিসংঘের

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান বিবাদ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ প্রত্যাখান করেছে জাতিসংঘ। এই চুক্তি প্রত্যাখানের পাশাপাশি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের সমাধান আন্তর্জাতিক আইনে জাতিসংঘের অধীনে হবে বলে জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা ‘মিডল ইস্ট মনিটর’এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফিন ডুজারিক বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তা পরিষদের সমাধানের ভিত্তিতে দুদেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা সঙ্কট নিরসনে জাতিসংঘের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং জাতিসংঘের দেওয়া সমাধানের ভিত্তিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যকার চলমান সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাতিসংঘ। দুই দেশের নাগরিকরা যাতে শান্তিতে এবং নিরপদে বসবাস করতে পারে তাই সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের মতামত, দূরদর্শিতা এবং ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমারেখা অনুসরণ করা হবে।’

এই সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামত উপেক্ষা করে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প ঘোষিত শান্তি চুক্তিতে জেরুজালেমের সম্পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ইসরায়েলকে দেওয়া ছাড়াও সীমানা নির্ধারণে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমারেখা অনুসরণ করা হয়নি।

এই প্রস্তাবকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনসহ আরব বিশ্বসহ অনেক দেশের নেতারা। এ ছাড়াও ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’কে ‘ডিল অব শেইম’, ‘একপাক্ষিক’ এবং ‘আক্রমণাত্মক’ বলে অভিহিত করেছেন।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন,‘ইসরায়েল স্বার্থ রক্ষার্থে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশিত পরিকল্পনার প্রতি হাজারবার না।’
ফিলিস্তিনের এই নেতা আরও জানান, ইসরায়েলের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হতে এবং জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করে রাষ্ট্র ঘোষণা করতে ফিলিস্তিনিরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।

এ ছাড়াও ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশের পর গাজায় একযোগে বিক্ষোভ করেছে ‘ফাতাহ’, ‘হামাস’ এবং ‘পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন’।