টুকুকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ, বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

পাবনার বেড়া পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ (বেড়া- সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুকে আচরণবিধি মেনে এলাকা ছাড়ার অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) বেড়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান এ চিঠি দেন।

জানা গেছে, বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে লড়ছেন শামসুল হক টুকুর ছেলে আসিফ শামস রঞ্জন। এ ছাড়া টুকুর ভাই আব্দুল বাতেন ও বড় ভাইয়ের মেয়ে সাদিয়া আলম মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিজ ছেলেকে বিজয়ী করতে আচরণবিধি ভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা, বহিরাগত ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদিকে, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক ও পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন টুকুর ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল বাতেন।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও বেড়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আচরণবিধি অনুযায়ী সংসদ সদস্য পর্যায়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করে এর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুকে এই বিধান মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

শামসুল হক টুকু চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নির্বাচন বিধান সম্পর্কে যদিও আমি জানি, তারপরও চিঠি দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই। আমি নিজেও চাই, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন হোক। আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি, করার ইচ্ছেও নেই।’

শামসুল হক টুকুর পরিবারের তিন প্রার্থীকে ঘিরে কেবল পরিবারের সদস্যরাই নয়, বিভক্ত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। চলছে একে অপরকে আক্রমণ করে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। সভা সমাবেশ, সামাজিক মাধ্যমেও চলছে বাদানুবাদ, তর্ক-বিতর্ক। ঘটেছে হামলার ঘটনাও। মেয়র প্রার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

টুকুর পরিবারের তিন জনসহ মোট পাঁচ প্রার্থী বেড়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।