যোগদানের প্রথম দিনেই ২৯ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছেন টিটিই শফিকুল

অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার, সেই আদেশের দুইদিন পর কাজে যোগদান। কাজে যোগদানের প্রথম ৬ ঘন্টায় ২৯ হাজার ১৯০ টাকা রাজস্ব আয় করেছেন রেলমন্ত্রীর তিন আত্মীয়কে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের দায়ে জরিমানা আদায়ের জন্য বরখাস্ত হওয়া সেই আলোচিত ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১০ মে) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ট্রেন রূপসা এক্সপ্রেসের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) হিসেবে নিজের পালন শুরু করেন তিনি। ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীদের জরিমানার মাধ্যমে এই টাকা আয় করেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে টিটিই শফিকুল ইসলাম, ১২টার দিকে ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেসে দায়িত্ব পালন করি। আমার সঙ্গে আরও তিনজন দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন (রাত ৯টা) পর্যন্ত ট্রেনের অতিরিক্ত যাত্রীদের টিকিট কাটার মাধ্যমে ৯ হাজার ১৯০ টাকা আদায় করা হয়েছে। সীমান্ত এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদীতে যাচ্ছি। ঈশ্বরদী পৌঁছাতে রাত ১২টা বাজতে পারে।

দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনে তাকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা গেছে। এদিন বেলা ১১টায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনের টিটিই হেডকোয়ার্টারের নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হোন তিনি। পরে স্টেশন মাস্টার তাকে দায়িত্ব বুঝে দিলে তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। গত রবিবার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও এই দুই দিনে ট্রেনের টিকিট চেকিংয়ের জন্য দায়িত্ব পেয়েছিলেন না।

দায়িত্ব পালনের শুরুতেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ঢাকা মেইলকে বলেন, রেলমন্ত্রী মহোদয় স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ যে আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে তিনি প্রথম অবদান রেখেছেন। আমি দায়িত্ব পালনের শুরুতেই রেলমন্ত্রী স্যার ও আমাদের ডিআরএম স্যারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমি সাংবাদিক ভাইদের প্রতিও চির কৃতজ্ঞ।

এর আগে রবিবার (৮ মে) দুপুরে দেশব্যাপী আলোচিত-সমালোচিত এই ঘটনায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের শুরুতেই টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এদিন নিজ ক্ষমতাবলে টিটিই’র বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বরখাস্তকারী পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে শোকজ করেন। তাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত শনিবার (৭ মে) ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সহকারী পরিবহণ কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামকে প্রধান এবং সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ডেন্ট (এসিআরএনবি) আবু হেনা মোস্তফা কামালকে সদস্য করা হয়। দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও পরে আরো দুই দিন সময় বৃদ্ধি করা হয়।

গত শুক্রবার (৬ মে) রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ করায় তিন যাত্রীকে জরিমানা করায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয় খুলনা থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষককে (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে খুলনা থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে বিনা টিকিটে এসি রুমে উঠেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের আত্মীয় পরিচয়ে তিন যাত্রী। মাঝপথে তাদের বিনা টিকিটে রেলভ্রমণের দায়ে জরিমানা করে সাময়িক বরখাস্ত হোন ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। এনিয়ে গণামধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়।

এঘটনায় সমালোচনা সৃষ্টি হলেও ওই তিন আত্মীয় পরিচয় অস্বীকার করে প্রথম দিকে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা যাত্রীরা আমার আত্মীয় নয়; ওদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়তো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

রেলমন্ত্রী পরিচয় অস্বীকার করলেও সরেজমিনে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। ট্রেনযাত্রীরা হলেন- রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনি’র দুই মামাতো ভাই ওমর ফারুক ও হাসান আলী এবং অপরজন প্রতিবেশি ইমরুল কায়েস প্রান্ত। ওমর ফারুক পাবনার ঈশ্বরদীর শহরের নুর মহল্লার মৃত আব্দুর রহমান ও হাসান আলী একই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। আর প্রান্ত ঈশ্বরদীর ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকার কবির আহমেদের ছেলে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রান্ত’র মা ইয়াসমিন আক্তার নিপা রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মি আক্তার মনি’র খুবই ঘনিষ্ট এবং বোন পরিচয় দিয়ে থাকেন । মনি গত ঈদুল ফিতর তার বাসায় উদযাপন করেছেন।