বাবা-মায়ের আদর্শে চলেন টিটিই শফিকুল, সৎ রুজিই তাঁর পুঁজি

সংগৃহিত-ঢাকা মেইল : বর্তমানে টক অব দ্যা কান্ট্রি ‘টিটিই শফিকুল ইসলাম’। রেলমন্ত্রীর তিন আত্মীয়কে বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে জরিমানা ও বরখাস্তকাণ্ডে দেশের মানুষের মুখে একটি আলোচিত নাম ‘টিটিই শফিকুল’।

হঠাৎ আলোচনায় আসা শফিকুলের রেলকে ঘিরে রয়েছে অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। নিজের প্রিয় কর্মস্থল ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনের নিজ কার্যালয়ে বসে সেই স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথাগুলো জানালেন। কথাগুলোর নোটবন্দি করেছেন ঢাকা মেইলের পাবনা প্রতিনিধি শামসুল আলম।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা শফিকুল ছিলেন খুবই মেধাবী। স্কুল জীবনে প্রতিটি ক্লাসেই ছিলেন ফার্স্টবয়। টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ যোগার করতে হয়েছে শফিকুলের। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থেকে আইন বিষয়ে অনার্স করা শফিকুল এসএসসিতে রেকর্ডসংখ্যক মার্ক নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার সারুটিয়া গ্রামের রজব আলী শেখ ও মোছা. শুকরুন্নেসা দম্পতির তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। ব্যক্তিজীবনের এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক। মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছেলে পড়ে ক্লাস ওয়ানে। স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঈশ্বরদী শহরের পূর্বটেংরি পাড়ার কেন্দ্রীয় গোরস্থানের পূর্ব পাশে ভাড়া বাড়িতে থাকেন তিনি।

বাবা-মায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত শফিকুল বলেন, ‘বাবা-মা সব সময় বলতেন অবৈধ ইনকাম করে এনে গোসত-ভাত খাওয়ার চাইতে সৎ ইনকামের ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকা উত্তম। আমি তাদের আদর্শ লালন করেই চলতে চাই। সৎ রুজি রোজগারই আমার জীবনের পুঁজি।’

শফিকুলের আদর্শের আরেক গুরু ছিলেন তার প্রাইভেট শিক্ষক রবী ঠাকুর। প্রিয় শিক্ষককে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি স্কুল জীবন থেকেই একজন আদর্শবান শিক্ষক পেয়েছিলাম, তিনি আমাদের শুধু প্রাইভেট পড়াতেন। আমি এসএসসি দেওয়ার আগেই তিনি ভারত চলে গেছেন। কিন্তু আমি তার দেওয়া উপদেশ-আদেশ এখনও ধারণ করি।’

কর্মজীবনের শুরুটা ছিল বেশ আনন্দের জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে লালমনিরহাট রেল স্টেশনে যোগদান করি। পরে ২০১৪ সালে পাকশী রেলওয়ে বিভাগে যোগদান করি।’

বিপদ-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা আলোকিত শফিকুলের। তিনি বলেন, ‘কেউ কোনও বিপদে পড়লে ছুটে চাই। মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমি যখন টিউশনি পড়িয়েছি তখন অনেককেই বিনা টাকায় পড়িয়েছি। সেইসব ছাত্ররা এখনও মেডিকেল-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে কর্ম করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আমি যুক্ত রয়েছি।’

মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি-আমার চা পর্যন্ত খুব একটা খাওয়া হয় না, বিড়ি-সিগারেট তো ছুঁয়েও দেখিনি। এজন্য আমার গ্রামের মানুষগুলোও এখনও আমাকে খুব রেসপেক্ট করে, সম্মান করে।’

দেশের মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণপরিবহন হলো রেল। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ সহজে ও সাশ্রয়ে রেলভ্রমণ করেন। ফলে বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা রেল। কিন্তু হচ্ছে উল্টো। এটিই শফিকলকে ভাবায়।

সম্প্রতি সময়ের রাজস্ব আয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রায় মাসেই আমি রেল থেকে ২ থেকে ৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৪০ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩০ টাকা, মার্চে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০ টাকা এবং সবশেষ এপ্রিল রাজস্ব আদায় করেছি ৩ লাখ ১ হাজার ২৮০ টাকা।’

দেশব্যাপী আলোচিত শফিউল রেলকে রুপান্তর করতে চান লাভজনক প্রতিষ্ঠানে। নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার চেষ্টা থাকবে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের। আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে রেলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।’