জনগণের ভোট চুরি করে কেউ রেহাই পায়নি: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের ভোট চুরি করে কেউ পার পায়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে অতীতে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তারা তাদের শাস্তি পেয়েছে।’

‘জনগণের ভোট চুরি করে যারা ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশের মানুষই তাদের ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হতাম, তাহলে এই তিন তিনবার আমরা ক্ষমতায় আসতে পারতাম না। আর আজকে ১৩ বছর পূর্ণ করতে পারতাম না।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। আর সে ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে বদনাম করে বেড়াচ্ছে দেশে-বিদেশে। এটাও আরেকটি বিষয়। কই খালেদা জিয়ার আমলে তো ডিজিটাল হয়নি বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন যারা সহ্য করতে পারে না তাদের মুখে কিছুই হলো না, কিছুই হলো না কথা। তাদের বলব, নিজেরা আয়নায় একটু চেহারা দেখেন। আর অতীতে কী করেছেন সেটা দেখেন। আর যাদের জন্য মায়া কান্না একটা হলো দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত, আরেকটা খুনি। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে যারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। আইভী রহমানের হত্যাকারী। সেই হত্যাকারীরা আজকে সব থেকে বেশি সোচ্চার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু এখানে (দেশে) না, বিদেশের কাছে নালিশ করে বেড়াচ্ছে, তাদের কাছে তথ্য দিচ্ছে। এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীকে দয়া করে আমরা বাসায় থাকতে দিয়েছি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সব থেকে ব্যয়বহুল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আর তার ছেলে একজন ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ফ্রিজিটিভ হয়ে গেছে। বিদেশে পালিয়ে আছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এদেশের উন্নয়নের চাকাটা গতিশীল থাকবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুনি- যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজদের কোনো স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। এই কথাটা তাদেরকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে হবে।  জনগণের অধিকার নিয়ে আমরা কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আমি এটুকু বলব, জাতির পিতা এ সংগঠন নিজের হাতে তৈরি করে দিয়ে গেছেন। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে আমরা এই সংগঠনকে আবার সুসংগঠিত করেছি। আর একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগ থাকলে এ দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা পায়। আজকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা নিয়ে চলে।’

‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মঙ্গা থাকে না, দুর্ভিক্ষ থাকে না। মানুষের সেই হাহাকার নেই। আর মানুষকেও আমরা কষ্ট দেব না। মানুষের অন্ন, বস্ত্রের চাহিদা আমরা মিটাই, মিটাতে পেরেছি। জিয়া, খালেদা জিয়া সবার আমলেই কিন্তু বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় এনে বাংলাদেশের মানুষকে পরানো হতো।’

‘আজকে তা আর লাগে না। বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় এনে পরাতে হয় না। আমরা পুরনো কাপড় বিদেশে পাঠাতে পারি, দিতে পারি। সেই সক্ষমতা আছে, সেই সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। কিন্তু এটাকে ধরে রাখতে হবে। ধরে রাখতে হবে এ কারণে যে উন্নয়নটা আমরা করেছি তার গতিধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’

………………………………>
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং পাবনার খবরাখবর রাখুন