ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বাবলু’র আত্মত্যাগ আজও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মেধাবী ছাত্রনেতা মাহবুবুল হক বাবলুর ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৭ সালের এ দিনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের হামলায় শাহাদত বরণ করেন। শহীদ মাহবুবুল হক বাবলু এ দেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি প্রবর্তন এবং ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে ছাত্রসমাজের নেতৃত্ব প্রদান ছিল তার অনন্য কীর্তি। আশির দশকে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন কিংবা এ দেশের ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখেন তারা শহীদ বাবলুর আত্মত্যাগ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাহবুবুল হক বাবলু ও তার সহোদর সানাউল হক নীরু আশির দশকের কিংবদন্তির নাম। সে সময় নীরু-বাবলু ছিলেন আপসহীন ছাত্রনেতা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উজ্বল নক্ষত্র।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তথা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দুই সহোদর বাবলু-নীরুর যে অবদান তা ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। শহীদ জিয়াউর রহমানের আহ্বানে শিক্ষা-ঐক্য-প্রগতি স্লোগানে বাবলু ও তার ছোট ভাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই জড়িত ছিলেন।

জিয়াউর রহমান যখন বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করার জন্য এর একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাই তিনি ১ জানুয়ারি ১৯৭৯ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখনকার সময়ে জিয়ার জনপ্রিয়তার জন্য অনেক মেধাবী তরুণ অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেন।

মাহবুবুল হক বাবলু তার মার্জিত রুচিবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, সততা, মেধা প্রভৃতি গুণ ছাত্রসমাজকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। তিনি থাকতেন মিছিলের অগ্রভাগে। ঢাকা শহরে তখন ছাত্রদলের যে মিছিল বের হতো নীরু-বাবলু সে মিছিলের নেতৃত্ব দিতেন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে তখন এ দেশের ছাত্রসমাজ আন্দোলনে একাট্টা। নীরু-বাবলু ছিলেন এই আন্দোলনের মধ্যমণি।

স্বৈরাচারবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ মার্চ ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। এর আগে ৯ মার্চ মুহসীন হলে খুব কাছ থেকে বাবলুকে গুলি করা হয়। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় স্বৈরাচারের দোসররা। আহত রক্তাক্ত বাবলুকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে বাবলুর লাশ দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি শহীদ মাহবুবুল হক বাবলুকে সর্বকালের সেরা সংগঠক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মৃত্যুর পর সারা দেশে ছাত্রজনতা শোকাভিভূত হয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে দাফনের দাবিতে ছাত্রজনতা বিক্ষোভ করতে থাকেন; কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রবল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। অবশেষে নরসিংদীর মনোহরদীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দিনটি উপলক্ষে শহীদ মাহবুবুল হক স্মৃতি পরিষদ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে আছে মরহুমের মাজারে ফাতেহা পাঠ, কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল। ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক বাবলুর ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আলোচনা সভা, স্মৃতি পাঠাগারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনসহ দোয়া ও মিলাদ-মাহফিল।