আবারও আলোচনায় চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান

পাবনা পৌরসভা নির্বাচনের পর আবারও আলোচনায় উঠেছে এসেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান ।

জেলার সর্বত্র এখন এই আলোচিত চেয়ারম্যানের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ই আলোচনায় থাকেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া পাবনা পৌরসভা নির্বাচনে তিনি অন্যতম আলোচিত নাম ছিলেন। নতুন করে ভাড়ারায় আ.লীগকর্মী আমিরুল ইসলাম নিহতের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নিহতের ঘটনায় তার দিকে ইঙ্গিত করে পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এতে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠেছে। নিহত আমিরুল ইসলামের মরদেহ নিয়ে সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পাওয়ার পর এই বিক্ষোভ মিছিল হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পথসভায় হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ খানকে দায়ি করে তার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা। তবে আবু সাইদ খান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নিহত আমিরুল ইসলামনিহত আমিরুল ইসলামরোববার রাতে ভাঁড়ারা ইউপির আতাইকান্দা এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় গুলিতে হত্যা করা হয় আমিরুল ইসলামকে (৩০)। আমিরুল পাবনা সদরের কাথুলিয়া গ্রামের মন্তাই ব্যাপারীর ছেলে।

পাবনা সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ বলেন, স্থানীয় দুটি পক্ষের বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাঁড়ারা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খাঁন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান খাঁনের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।

সুলতান খান গণমাধ্যমকে বলেন, “আবু সাইদ খানের অবৈধ বালি উত্তোলন, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় হত্যা করা হয়েছে আমিরুলকে। গত ইউপি নির্বাচনে সাইদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করায় আমার বৃদ্ধ বাবা ও চাচাকেও গুলি করে হত্যা করেছে সাইদ ও তার বাহিনী। বাধ্য হয়ে আজ আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।”

তবে হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান উল্টো সুলতান খাঁকেই ‘মাদক ব্যবসায়ী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করেন।  তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “সুলতান খাঁন সপরিবারে মাদক ব্যবসা করেন। তিনি স্থানীয় প্রভাশালী লোকজন নিয়ে পদ্মা নদীর বালিমহালের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির ষড়যন্ত্রে নিজেরাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমাকে দোষারোপ করছে তারা।”

নিহত আমিরুলের বাবা মন্তাই ব্যপারী বলেন, “আমার ছেলে কাঠমিস্ত্রির কাজ করত। তাকে অকারণে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।”

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

>> পাবনার নিয়মিত ভিডিও পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকনটি চালু করুন। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন