‘চাল চোর’র পক্ষ নেয়ায় পৌর মেয়রকে বেড়া আ.লীগ সভাপতি থেকে অব্যাহতি

নিজ গোডাউন থেকে ২২৯ বস্তা সরকারি ত্রাণের চালসহ পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার (৬০) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

এনিয়ে চলছে দেশব্যাপী সমালোচনা। সমালোচনা মুখে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালেই ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগে  কোরবান আলী সরদারকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

এরপরও তার পক্ষে নিয়ে সাফাই গেয়ে বহিস্কৃত হলেন পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আব্দুল বাতেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ভাই। কেন্দ্রের নির্দেশে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি এই অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কোরবান আলী সরদারকে সোমবার রাতে ২২৯ বস্তা সরকারি ত্রাণের চালসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় চেয়ারম্যান কোরবান আলীকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় ত্রাণের চাল চুরিতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিষয়টিকে ‘প্রশাসনের ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দেন পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান কোরবান আলীকে মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত হন তিনি। এজন্য দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে মেয়র আব্দুল বাতেনকে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ।

আব্দুল বাতেনকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল বলেন, ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী সরদারকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ত্রাণের চাল চুরি করার অভিযোগে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের নির্দেশে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে সেই চার চোর চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়েছে  স্থানীয় (পাবনা-২) সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ ফিরোজ কবীর। মঙ্গলবারই কোরবান আলী সরদারের পক্ষে জামিনের জন্য নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে পাবনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন তিনি। বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে সাজানো ঘটনায় কোরবান সরদারকে ফাঁসানো হয়েছে বলে সাফাই গেয়েছেন এমপি।

স্থানীয় (পাবনা-২) সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ ফিরোজ কবীর। মঙ্গলবারই কোরবান আলী সরদারের পক্ষে জামিনের জন্য নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে পাবনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন তিনি। বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে সাজানো ঘটনায় কোরবান সরদারকে ফাঁসানো হয়েছে বলে সাফাই গেয়েছেন এমপি।

প্রসঙ্গত, পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের এমপি শামসুল হক টুকুর ছোট ভাই।