চাকরি দেয়ার পরও প্রেমিকের ইউটার্ন, পাবনায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অবস্থান!

সরকারি চাকরি দেওয়ার পরও বিয়ে না করায় পাবনার আমিনপুরে বিয়ের দাবিতে এক প্রেমিকা প্রেমিকের বাড়িতে ৮দিন ধরে অবস্থান করছে। এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আমিনপুরের পুরানভারেঙ্গার কল্যানপুর গ্রামের মো. আবুল হোসেন রাজমিস্ত্রির মেয়ে প্রেমিকা কলেজ শিক্ষার্থী মোছা: হাসনা খাতুন (২২) একই গ্রামের বাসিন্দা  মোঃ তোতা মাঝির ছেলে প্রেমিক মোঃ সেলিম রেজার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে ছেলে ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে পালিয়েছে গেছে। আর প্রেমিকা হাসনা খাতুন বিয়ের জন্য অনড় অবস্থানে। বিয়ে না করলে প্রেমিকের বাড়িতেই আত্মহত্যা করবে বলে জানিয়েছেন প্রেমিকা।

স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, দীর্ঘ চার বছরের প্রেমের সস্পর্ক হাসনা ও সেলিমের। সম্পর্কে তারা আত্মীয়। একই গ্রামে বাড়ি হওয়াতে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক সেই ছোট বেলা থেকেই। সম্প্রতি চার বছর ধরে একে অপরের সাথে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। বেশ কিছুদিন আগেও মেয়েটি তার সাথে সম্পর্ক ও বিয়ের দাবিতে ছেলেটির বাড়িতে গিয়েছিলো বলে জানা গেছে। তবে সেবার পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে বসে সমাধান করেছিলেন। ছেলের পরিবার কথা দিয়েছিলো যদি মেয়ের পক্ষ তার ভালো চাকরি দিতে পারে তবেই তাদেরকে বিয়ে দিবেন। ছেলেটির সম্প্রতি একটি সরকারি চাকরি হয়েছে। এখন ছেলের পরিবার সদস্যরা এই মেয়েটির সাথে ছেলের বিয়ে দিতে যাচ্ছে না তারা। মেয়েটির কথা মত ছেলে রাজি থাকলেও তার পরিবারের সদস্যরা এখন রাজি না। তাই ছেলের সাথে কথা বলেই তার বাড়িতে উঠেছেন সে। প্রেমিকা হাসনা খাতুন চলতি মাসের ১৬ নভেম্বর প্রেমিকের কথা মত তার বাড়িতে চলে আসে। প্রথম দিকে মেয়েটিকে ছেলের বাড়ির লোকজন শারীরিক ভাবে নির্যাতন চালায় কিন্তু সে ওই বাড়ি থেকে বের হয়নি। প্রেমিকার এই অনড় অবস্থা দেখে বাড়ি থেকে সোটকে পরে প্রেমিক। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে ছেলের পরিবার।

এদিকে বিয়ে না করলে প্রেমিকের বাড়িতেই আত্মহত্যা করা হুমকি দিয়েছেন প্রেমিকা হাসনা খাতুন। প্রেমিকা মোছাঃ হাসনা খাতুন স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিষয়ে প্রেমিকা হাসনা খাতুন বলেন, কারো সাথে গভীর প্রেমের সম্পর্ক না থাকলে কি বিয়ের দাবি করা যায়। তারা আমাদের আত্মীয় হয়। আমাদের চেনাজানা ছোট বেলা থেকেই। আমরা গরিব মানুষ ৬ বোন ৩ ভাই। আমার কি মান সম্মান নাই। এর আগেও ওই ছেলে আমাকে নিয়ে এসেছিলো তাদের বাড়িতে। তখন সকলে বুঝিয়ে আমাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলো। ছেলের চাকরি নাই তাই আমার মা গ্রামের এক স্যারকে ধরে তার চাকরি দিয়েছে। আমার ফোন কল রেকর্ড রয়েছে ম্যাসেজ রয়েছে তার সাথে সম্পর্কের। আমাকে সে’ই তার বাড়িতে উঠতে বলেছে। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে টাকার বিনিময়ে অন্য মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে চাইছে।

তিনি বলেন, আমার সাথে সম্পর্ক করে চাকরি নিয়ে এখন অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে এটা আমি মেনে নিতে পারবো না। আমি গ্রামের মানুষের কাছে মুখ দেখাবো কি করে। আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করবো।

এব্যাপারে প্রেমিক সেলিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথম ফোন নাম্বার ০১৭০৩-৩৮৮৯২৭ নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। আর দ্বিতীয় নাম্বারে ফোন ধরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। এদিকে মেয়েটিকে মানসিক ও বাড়ি থেকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় মহিলা ওয়ার্ড মেম্বার সেলিনা খাতুন।

ঘটনার বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রওশন আলী বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে কোন লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে কোন পক্ষই করেনি। সামাজিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধান করতে হবে। মেয়েটি আইনগত সাহায্য চাইতে পারে। তবে এই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার ভালো বলতে পারবেন।

ঘটনার বিষয়ে বেড়া উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাঃ সবুর আলী বলেন, প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান এই বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আমার কাছেও বিষয়টি এসেছে। আমি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বারকে বিষয়টি সমাধান করে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। যতটুকু শুনেছি ছেলে ও মেয়েরা সম্পর্কে আত্মীয় হয়। তবে ছেলে বা মেয়ের পক্ষের সাথে কথা বলে কাজ হচ্ছে না। মেয়েটিও ওই বাড়ি থেকে বেড় হচ্ছে না। এদিকে ছেলা লাপাত্তা। এটা একটা সামাজিক অবক্ষয়। মেয়েটি তার অধিকারের জন্য পুলিশের কাছে বা কোর্টের দারস্থ হতে পারে।  নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আদালত রয়েছে সেখানে বিচার চাইতে পারে কিন্তু করছে না। দেখি আবারো সকলের সাথে কথা বলে সমাধান করা যায় কিভাবে চেষ্টা করছি।

তবে এই ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য ছেলের পরিবার ও মেয়েরে পরিবার সাথে অনেক ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কেউ কোন কথা বলে রাজি হয়নি। মেয়ের পরিবারের দাবি তাদের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। মেয়ে এর আগেও ছেলের কাছে চলে গেছিলো। তখন সকলে মিলে ছেলে ও মেয়েকে বুঝিয়ে তাকে বাড়িতে রেখে গেছে। এবার আবার চলে গেছে, দুইজনি প্রাপ্ত বয়স্ক আইনগত ভাবে তাদের বিয়ে দিয়ে একটি সমাধান করে দিলেই তো হয়। এই বিয়েতে আমাদের কোন আপত্তি নাই বলে মেয়ের বাবা মোঃ আবুল হোসেন জানান।