কারখানা খোলার খবরে পাবনার কাজিরহাটে ঢাকাগামী মানুষের ঢল

আগামীকাল থেকে রপ্তানিমুখী সব মিল কল-কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ঢাকা উদ্দেশে ছুটছে মানুষ। পাবনার কাজিরহাট ফেরি ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি মানানো ।

শনিবার (৩১ জুলাই) ভোরে ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি ফেরিতে ছিল না তিল ধারণে ঠাঁই ।

কাজীহাট ঘাট কর্তৃপক্ষ জানান, মানুষের ভিড়ে তিনটি ফেরিতে কোনো যানবাহন পাড় করা সম্ভব হয়নি।

কাজিরহাট ঘাটের ব্যবস্থাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, আজ ভোর থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত যে তিনটি ফেরি ছেড়ে গেছে তার প্রতিটিতেই তিন হাজারের বেশি মানুষ ছিল।

ঘাটে ফেরি দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ উঠে পড়ায় যানবাহন নামাতে বেগ পেতে হয়েছে। এ সময় নতুন করে কোনো যানবাহন ফেরিতে তোলা সম্ভব হয়নি। লকডাউন চলায় সড়ক পথে তেমন যানবাহন চলছে না। যে কারণে অল্প কিছু গাড়ি ঘাটে আটকা পড়েছে।

ঢাকায় পোশাক কারখানায় কর্মরত মনির হোসেন বলেন,  ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন ও কারখানা বন্ধের ঘোষণায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঈদে বাড়িতে এসেছিলাম। হঠাৎ করে কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিপদে পড়েছি। পরিবারের সদস্যদের রেখে আমাকে একাই ফিরতে হবে।

কাজিরহাট ফেরিঘাটে কর্মরত সাদ্দাম হোসেন জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি ফেরিতে সাধারণত এক থেকে দেড় হাজার যাত্রী পাড় করা হলেও, এখন তিন থেকে চার হাজার মানুষ পাড় হচ্ছে। 

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, করোনার ভয়াবহতার কথা মাথায় না রেখে এভাবে চলাচল করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এভাবে চলাচল করলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে।