দুই যুগ পর আশার আলো দেখছে পাবনাবাসী, চালু হচ্ছে কাজিরহাট-আরিচা ফেরি

প্রায় দুই যুগ পর আবারও আশার আলো দেখছে পাবনাবাসী। বহু প্রত্যাশিত পাবনার কাজিরহাট-আরিচা ফেরি চলাচল আবারও শুরু হচ্ছে।

পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের যাত্রাপথের দূর্ভোগ কমাতে এই নৌরুটে ফেরি চলাচলের উদ্যোগ নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ২ যুগ পর এ সিদ্ধান্তে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগকারী নানাশ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে আশার বাণী সঞ্চার হয়েছে।

তবে যমুনা নদীতে ২০ থেকে ২৫ টি চর ও প্রচন্ড নাব্যতা সংকট মোকাবিলা করে কাজিরহাট-আরিচা ফেরি সার্ভিস চালুর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে নৌ-মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের কাছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথের দুই পাড় ফেরিঘাট নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই রুটে ফেরি সার্ভিস চালু হলে যানবাহন চলাচলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি লাখো মানুষের যাত্রাপথের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে মনে করছেন।

সূত্র দাবী করছে, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবানগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার লাখ লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজিরহাট থেকে স্পিডবোট ও ইঞ্জিন চালিত শ্যালো নৌকায় আরিচা হয়ে ঢাকা যাতায়াত করছেন। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে সড়কপথে ঢাকা পৌঁছাতে যেখানে ৫/৭ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। সেখানে নদীপথে মাত্র ৪/৪ ঘন্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।

নদী পথে এ সকল যানবাহনে পারাপারে জীবনের ঝুঁকি থাকলেও সড়ক ও সেতুপথে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয় এ সাধারণ যাত্রীদেরকে। যে কারণেই নিম্ন আয়ের মানুষেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রলারে নদী পার হচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক কয়েকদিন আগে কাজিরহাট-আরিচাঘাট নৌরুট পরিদর্শণকালে গণমাধ্যমে বলেন, ফেরিতে এ পথ পাড়ি দেয়া যাবে এক থেকে দেড় ঘণ্টায়। চলতি মাসের শেষ দিকেই এ রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করার আশা করছেন তারা।

তবে এবিষয়ে বিআইডাব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট কাউকে কাজীরহাট ঘাট এলাকাতে পাওয়া যায়নি। ঘাট সংশ্লিষ্টদের সাথে মুঠোফোনে একাধিব বার যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়না। তবে ফেরিঘাটের পল্টুন ভেড়ানোর ঘাট তৈরীতে কর্মরত ঠিকাদার জানান, জানুুয়ারি মাসের সম্ভাব্য ২৫ তারিখে এখানে ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিদিন ২ টি করে ফেরি যাওয়া আসা করবে। তবে নির্ভর করছে নদীর নাব্যতা অনুকূলে আসার উপর।