করোনা ভ্যাকসিনের যুগে পাবনা

সারা দেশের সাথে একযোগে পাবনাও করোনা ভ্যাকসিনের যুগে প্রবেশ করল। স্থানীয় সাংসদ, ডিসি, এসপিসহ জেলার শীর্ষস্থানীয় নাগরিকদের মাধ্যমে পাবনায় করোনা ভ্যাকসিনের প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন প্রদান বুথে প্রথমে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। পরে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খান ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপিচার্য প্রফেসর রোস্তম আলী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

পাবনার সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল মোমেনসহ স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা প্রদান করেন।

ভ্যাকসিন গ্রহণ শেষে সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের আগেই আমরা ভ্যাকসিন পেলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূরের কথা, সামান্যতম কোনো অসুবিধাও অনুভব করছি না। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর আমরা আধাঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। যেকোনো ভ্যাকসিন নেয়ার পর কিন্তু সাধারণ একটু জ্বর, মাথাব্যাথা হতেই পারে। কিন্তু এ ধরনের কিছুই হচ্ছে না। সুতরাং এটা আরও বেশি নিরাপদ।

জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল বলেন, সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বিচক্ষনতার কারণে দ্রুততম সময়ে আমরা ভ্যাকসিন পেলাম। আমার বয়স ৭১। আমি ও আমার বড়ভাই আজ একসাথে ভ্যাকসিন নিয়েছি। কোন অসুবিধা অনুভব করিনি। তিনি অপপ্রচারে কান না দিয়ে সবাইকে নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিনের টিকা গ্রহণের আহবান জানান।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, প্রথম পর্যায়ে জেলা সদরে জেনারেল হাসপাতালে ৩ টি বুথে এবং ৯ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ টি করে বুথে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চলবে।

পাবনায় প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ৮৪ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হবে। নানা বিভ্রান্তির কারণে প্রথম দিকে নিবন্ধনের হার কিছুটা কম। তবে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কোন অসুবিধা ছাড়াই টিকা গ্রহণ ও গ্রহণ পরবর্তী সময় সুস্থ থাকায় জনসাধারণের মধ্যে নিবন্ধনের হার বাড়বে। পর্যায়ক্রমে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকলের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেয়া হবে। যদিও ভ্যাকসিন গ্রহণকারীরা কোন অসুবিধা বোধ করছেন না এরপরও ভ্যাকসিনেশন পরবর্তী জটিলতা পর্যবেক্ষণ এবং তারও পরবর্তী সকল ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আপাতত অগ্রাধিকার তালিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিবন্ধন করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তি, স্বাস্থ্যখাতের লোকজন যারা সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে যান, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সবাই পাবেন এবং আশা করি সবাই ভ্যাকসিন নেবেন।

error: কাজ হবি নানে ভাই। কপি-টপি বন্ধ