করোনায় পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াসের মৃত্যু

মরণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইলিয়াস ( ৬৯) । শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী স্পেশালাইজড হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পাবনা শহরের গোপালপুর নিবাসী মো. ইলিয়াস পাবনার প্রখ্যাত চিকিৎসক মো. ইসহাক সাহেবের কনিষ্ঠ পুত্র। প্রয়াত মো. ইলিয়াস মৃত্যুকালে স্ত্রী ডাঃ হাসনাত জাহান এবং এক ছেলে এক মেয়ে রেখে চিরবিদায় নিলেন।

মরহুমের বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধে জেলা মুজিব বাহিনী প্রধান ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইকবাল এবং মেজ ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমত।

আগামীকাল শনিবার (২৪ এপ্রিল) পাবনা জেলা স্কুল মাঠে সকাল ১০টায় পাবনার এই বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন>> টানা দ্বিতীয় দিন রাজশাহী বিভাগে সর্বোচ্চ আক্রান্ত পাবনায়

পাবনায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪৭ জন। যা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। গতকালও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ পাবনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭২। এনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৩২৮ জনে।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দুুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল মৃত্যু হলেও নতুন করে গত ২৪ ঘন্টায় পাবনায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে পাবনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ জনই।

গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনায় করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ৭ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১ হাজার ৮৫৫ জন। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৬০ জন। বাকিরা বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর শনাক্ত হলেও পাবনা জেলাতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৯ মে। জেলার চাটমোহর উপজেলার নারায়ণগঞ্জ ফেরত এক শ্রমিকের শরীরের প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভাগে করোনা ভাইরাসে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে ২ জন ও বগুড়ায় ১ জন মারা গেছেন। বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৫৯ জন।

এ দিন নমুনা পরীক্ষায় বিভাগে নতুন ১৬২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিভাগে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ৭৭১ জন। নতুন করে সু্স্থ হয়েছেন ১৪০ জন। মোট সুস্থ্য রোগীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৫৬১ জন। বিভাগে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিন হাজার ৭৫১ জন কোভিড-১৯ রোগী। বাকীরা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।