পাবিপ্রবির ভিসির কোটি কোটির টাকার দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, তদন্ত করবে দুদক

বিপুল অঙ্কের বাড়ি ভাড়া ফাঁকি, কর্মচারীদের বেতন-বিদ্যুৎবিল নিয়ে নেয়াসহ রয়েছে কোটি কোটি টাকার নানা অনিয়মের ফিরিস্তি। সম্প্রতি সরকারি নিরাক্ষা প্রতিবেদনে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে এসব অভিযোগের। এবার তার তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

চার বিঘা জমিতে কোটি টাকার এই বাড়িতে থাকেন উপাচার্য ড. এম রোস্তম আলী। উপাচার্যের সেবায় সার্বক্ষণিক কাজ করেন নিরাপত্তাকর্মী, পিয়নসহ অনেকেই। কিন্তু অভিযোগ আছে, এই বাড়ির নির্ধারিত ভাড়া এম রোস্তম আলী পরিশোধ করেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী বেতনের ৪৫ শতাংশ হিসেবে ৩১ হাজার ২০০ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও এটিকে রেস্টহাউজ ঘোষণা করে মাসে ৩ হাজার ৮৭৫টাকা দেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আরও কিছু অনিয়মের ফিরিস্তি মিলেছে। প্রকল্পের গাড়ি না কিনেই ব্যয় দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকার বেশি। আবার সেই গাড়িটিই ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহীতে মাত্র দু’বছর ব্যবহারের পর বাতিল করে কেনেন কোটি টাকার যান। এছাড়াও রাজশাহীর বাসভবনের সার্বিক বিল নেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। রয়েছে ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগও।

এসব নিয়ে কেউ কথা বললেই নেয়া হতো নানা ব্যবস্থা। যদিও সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী বলেন, কিছু মানুষের আক্রোশের শিকার তিনি। অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে ইউজিসির অনুরোধে দুদক চলতি ব্ছরের ২৮ জানুয়ারি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।

২০১৮ সালের ৭ মার্চ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন ড. এম রোস্তম আলী। অডিট রিপোর্টের প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার বেশি অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে।