পাবনায় অবৈধ সিসা কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ

জুয়েল আসিফ : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া ইউয়িনের সেখেরচক-পোপালপুর গ্রাম এলাকায় অবৈধ সিসা কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। গভীর রাত হলেই এ কারখানায় ব্যাটারি পুড়ানো শুরু হয়। এতে প্রতিদিন কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোয়া ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। যা সেখানকার মানুষের জন্য মারাত্বক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া আনোয়ার প্রামানিক, দুলাল কর্মকার, আনারুল প্রামানিকসহ স্থানীয় আরো কয়েক ব্যাক্তি বিগত কয়েক বছর সেখেরচক গ্রাম এলাকায় পদ্মা নদীর কিনারে রাস্তার পাশে এই সিসা সংগ্রহের কারখানা স্থাপন করেছেন। সিসা সংগ্রহের জন্য কারখানায় গভীর রাতে আগুন দিয়ে পুড়ানো হয় ব্যাটারী। আর এই ব্যাটারী পোড়ানোর প্রকট গন্ধে আশপাশ এলাকায় থাকা কঠিন হয়ে যায়।

কারখানা থেকে নির্গত ধোয়া আশপাশের ফসল ও গাছপালা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শিশুসহ বয়স্ক লোকজন স্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একটি অবৈধ কারখানার জন্য হাজার হাজার মানুষের দুভোগ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।এই কারখানায় পরিত্যাক্ত ব্যাটারী কয়লার আগুনে পোড়ানো হয়।এবং সেখান থেকে গলিত শিশা আলাদা করে সংগ্রহ করা হয়।

এসব ব্যাটারীতে সিসা ছাড়া আরও থাকে প্লাস্টিক, দস্তা ইত্যাদি,যেসব পোড়ানোর ফলে ডাইঅক্সিন কার্বন মনোক্সাইড, সালফার অক্সাইড প্রভৃতি বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা দ্রুত বাতাসের সঙ্গে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এবং এর বেশিরভাগ বর্জ নদীতে ফেলা হয়। যার ফলে নদীর পানি বিশাক্ত হয়ে মাছ মরে ভেসে উঠে, এতে পরিবেশ দুষিত হয়।

কিন্তু বিশ্ব স্বস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সিসা দুষণের সব চেয়েনেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের উপর। সিসা স্পর্শে আসা শিশুরা গুরুতর স্থায়ী সাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে পারে। এটা বিশেষ করে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্তের ক্ষতি করে। প্রাপ্ত বয়স্করা দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শিশার স্পর্শে এল স্থায়ী সাস্থ্য ও কিডনী নস্ট হতে পারে। অন্তসত্বা নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাত, মৃত শিশু জন্ম দেওয়া, স্বাভাবিক সময়ের আগে সন্তান জন্ম দেওয়াসহ নানা সমস্যা হয়ে থাকে।

জিল্লুর রহমান জীবন নামে স্থানীয় ব্যাক্তি জানান, এখানে এই কারখানা থাকার কারণে আমাদের চরম ক্ষতি হয়। এখান থেকে কারখানাটি সড়ানো দরকার। বিষয়টি বার বার কর্তপক্ষকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিএম ইমরুল কায়েস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

>> পাবনার নিয়মিত ভিডিও পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকনটি চালু করুন। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন