পাবনায় প্রেমিকার ইজ্জতের মূল্য দুই লাখ টাকা!

পাবনার আমিনপুরে বিযের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে প্রেমিকা। অনশনের ২ দিনের মাথায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় মেয়ের পরিবারকে নগদ ২ লক্ষ টাকা দিয়ে জোর পূর্বক আপোষের চেষ্টা করছেন প্রেমিকের পরিবার।

জানা গেছে, প্রেমিক আহাম্মদ আলী পাবনার বেড়া উপজেলার জাতসাখিনী গ্রামের মৃত সবুর মিয়ার ছেলে। আর প্রেমিকাও একই গ্রামের । দুবছর পূর্বে তাদের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক প্রেমে পরিণত হয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর ওই তরুণিকে এড়িয়ে চলতে থাকে প্রেমিক। গত বুধবার প্রেমিকের বিয়ের কথা শুনে প্রেমিকা প্রেমিকের বাড়িতে এসে অবস্থান করেন।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বলেন, গত বুধবার সকালে কাজের সন্ধানে বাইরে যাই। বিকেলে বাড়িতে ফিরে দেখেন তাদের মেয়ে ঘরে নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার মেয়ে প্রেমিক আহাম্মদ আলীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমার মেয়েটাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিয়ে মারপিট ও নির্যাতন করছে। আহম্মদের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বারবার পুলিশের ভয় দেখাচ্ছে। তারা টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। ইজ্জতের মূল্য তো আর টাকা দিয়ে পূরণ হয় না।

বিয়ের দাবিতে অনশনরত প্রেমিকা অভিযোগ করে বলেন, আহাম্মদ আলী আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সরলতার সুযোগ নিয়েছে। তার সাথে আমার দীর্ঘ ২ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। সে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে বেশ কয়েকবার।আহাম্মদের সাথে যে আমার প্রেমের সম্পর্ক আছে তার কথোপকথন আমার মোবাইলে সব কিছুই রেকর্ড আছে।

বিষয়টি স্বীকার করে আহম্মদ আলীর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, এক তরুণী গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন। আমাদের প্রতিপক্ষরা আমাদেরকে হয়রানি ও ফাঁসানোর জন্য এমনটা করছে।

জাতসাখিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মানিক জানান, এ ঘটনাটির ব্যাপারে উভয় পক্ষের লোকজনের সাথে কথা হয়েছে। যেহেতু মেয়ে নাবালিকা সেক্ষেত্রে বিবাহ দেয়া সম্ভব নয়। আর শুনেছি ছেলেটিও ২ দিন হলো বিবাহ করেছে। তারপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয়দের সাথে কথা হয়েছে। বিষয়টি যতদ্রুত সম্ভব সামাজিকভাবে মিমাংসা করতে বলা হয়েছে।