আশ্বাস দিয়ে ইছামতি নদীর বাসিন্দাদের আমরণ অনশন ভাঙালেন এমপি প্রিন্স

পাবনায় ইছামতি নদী পাড়ের বৈধ বসতি উচ্ছেদের প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পরে শতশত নারী, পুরুষ ও শিশুদের আমরণ অনশন ভাঙ্গালেন পাবনা সদর আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) বিকালে শহরের আব্দুর হামিদ সড়কের পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনরতদের সরবত পান করিয়ে অনশন ভাঙ্গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের  আশ্বাস দিয়েছেন এমপি।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে শহরের আব্দুর হামিদ সড়কের পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে উচ্ছেদের প্রতিবাদে ইছামতি নদী পাড়ের বৈধ বসতি শতশত নারী, পুরুষ ও শিশুরা কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেন।

অনশন চলাকালে ৫জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরই এক পর্যায় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পাবনা সদর আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স ও মহিলা এমপি নাদিরা ইয়াসমিন জলি আমরণ অনশনরতদের সরবত পান করিয়ে অনশন ভাঙ্গান। এসময় তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পাবনা শহরের মধ্যদিয়ে বয়ে চলা ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীর দুই পারে পৈক্তিক ও ক্রয়কৃত জমির মালিকরা প্রায় একশত বছর ধরে বৈধ ভাবে সরকারের খাজনা খারিজ দিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু সম্প্রতি কোন প্রকারের নোটিশ ও আলোচনা বা ক্ষতিপূরন ছাড়াই নদী পারের প্রায় ৪ হাজার বসতিকে উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা হুমকির মুখে পড়েছে।

পাবনা ইছামতি নদী পাড়ের বৈধ বসতি স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিন্টু জানান, ১৯৩৬ সালের সিএস দিয়ারা পেটি, ১৯৬২ সালের এসএ, ১৯৮৫ সালের আরএস এবং ২০১৫ সালের বিএস রেকর্ডিয় সুত্রে জমির মালিক আমরা। এছাড়া মহামান্য হাইকোর্ট বিরোধ নিস্প্রত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসনকে। মামলা চলমান থাকা শর্তেও জেলা প্রশাসন আইন অমান্য করে জোরপূর্বক আমাদের বৈধ জমিকে অবৈধ বলে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, চার পুরুষের বৈধ বসতিদের কাগজ পত্র দেখে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম করতে হবে। আর যদি নদী খনন করার জন্য জায়গা প্রয়োজন হয় তাহলে ক্ষতিপূরন দিতে হবে। আমরা সরকারের সকল খাজনা খারিজসহ চারটি রেকর্ডধারী জমির মালিক। চারটি বৈধ রেকর্ডধারীদের অবৈধ বলে কোন প্রকারের আলোচনা না করে জোড় পূর্বক সিমানা নির্ধারন করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলছে। যতক্ষন পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে, প্রয়োজনে লাশ হয়ে ফিরে যাবো। তিনি এই সমস্যার সমাধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তোক্ষেপ দাবী করেন।