পাবনায় সাবেক চেয়ারম্যানের কর্মচারী হত্যায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ির কর্মচারী আব্দুল মতিনকে (৩০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজকে (৪০) এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার সোনাতলা গ্রাম থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার (০৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের আওলাঘাটা ভূনারচর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোনাতলা গ্রামের ইউনুস আলী মোল্লার ছেলে। অপরজন পুটিগাড়া গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে আবু সাঈদ (২৬)। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হারুন অর রশীদকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজুর।

স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। মাঝে মধ্যেই দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৪ জুন) রাতে আব্দুল মতিন পৌরসভার ফেসওয়ান মহল্লার মেয়ে-জামাই বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ৮-১০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গতিরোধ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় সঙ্গে সাবেক চেয়ারমান হারুন-অর রশিদের ভাই জুয়েল রানাকে কুপিয়ে হত্যা করতে চাইলে তিনি পাশের ইছামতি নদীতে ঝাঁপে দিয়ে প্রাণ‌ রক্ষা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনু-অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, হাফিজ চেয়ারম্যারের সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ির কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

সাঁথিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের অভ্যান্তরীণ দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান বাদী হয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ১৮-১৯ জনের নামে সাঁথিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।