আরবের প্রসাধনী তৈরি হতো পাবনায়!

সৌদি আরব, আরব আমিরাত, তুরস্ক, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ প্রসাধনীর জন্য বিখ্যাত দেশ ও কোম্পানির নামের প্রসাধনী তৈরি করতো পাবনার লিয়ন কসমেটিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পাবনার শহরের অবৈধ এই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়েছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিপুল পরিমাণ নকল বিদেশি প্রসাধনী জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মালিককে জেল-জরিমানা করে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৮ জুন) দুপুরে পাবনা শহরের মেরিল বাইপাস রোডের গোলাপবাগ এলাকায় এই অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।

গ্রেফতারকৃত মো. আসাদুজ্জামান মাসুম (৫৬) ঈশ্বরদীর কালিকাপুর মৃত ময়েজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। তিনি দেশের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্কয়ার গ্রুপের একজন কর্মচারী ছিলেন। চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে তিনি নিজ বাড়িতে গোপনে এই নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা স্থাপন করেন।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান খোন্দকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে চালানো হয়। এসময় বিভিন্ন ব্রান্ডের বিউটি ক্রিম, বডি লোশন, ওয়েল, হেয়ার টনিক, পারফিউম ও বডি স্প্রেসহ নানা প্রসাধনী জব্ধ করা হয়। বাড়ির নিচ ও তৃতীয় তলার কক্ষে এই সব প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহার করা হতো ক্ষতিকারক ক্যামিকাল ও কাঁচামাল।

এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. আসাদুজ্জামান মাসুমকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসাদুজ্জামানকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এসময় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক নকল প্রসাধনী ধংস করা হয়।

অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসনাত, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার, ডিবি পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত সরকার, উপ-পরিদর্শক মনোয়ারুল ইসলামসহ জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশের সদস্যরা।