আবারও সংসদে ঝড় তুললেন এমপি হারুন

দেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি বলেছেন, ‘দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন নয়। স্বাধীনতার আগে যে লক্ষ্য নিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।’

এসময় সংসে সরকারি দলের এমপিরা প্রতিবাদ করেন এবং টেপিবল চাপরান। প্রতিবাদের মুখেও বক্তব্য অব্যাহত রাখেন এমপি হারুন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থ-বছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির এই আলোচিত সাংসদ এসব কথা বলেন।

হারুনুর রশিদ বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে, আমি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করবো কিনা। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। বিচার বিভাগ এখনও নির্বাহী বিভাগের অধীন। বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালতে বিভিন্ন নির্দেশে বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে। এটি আমাদের সত্যিকার অর্থে ন্যায় ও সঠিক বিচারের অন্তরায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পার হয়েছে, কিন্তু এখনও আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে পারিনি। আজ বলতে দ্বিধা নাই, সারা বাংলাদেশে চিহ্নিত মাদকসম্রাট, চিহ্নিত মাদকপাচারকারী, চিহ্নিত সরকারি সম্পদ আত্মসাৎকারীরা বিচারের আওতার বাইরে। আজ বিচার ব্যবস্থার যে দুরবস্থা, এই দুরবস্থা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। মিথ্যা মামলায় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় ঘুরছেন। পুলিশ বাদী ও সাক্ষী হয়ে যেসব মামলা দিচ্ছে, সেই সব মামলায় বিরোধীদলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তা রাস্তায় ঘুরছেন, আদালতে ঘুরছেন, সুপ্রিমকোর্টে ঘুরছেন। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তির একমাত্র উপায় বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে।’

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের বিপক্ষে রায় দেওয়ায় অনেক অধঃস্তন বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। আমি মনে করি বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে আমাদের স্বাধীনতার আগে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আমরা পূরণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করবো। সেই হিসেবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এই সময় সরকারি দলের এমপিরা হারুনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং টেবিল চাপরাতে থাকেন। এসময় হারুন আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ পাকিস্তান আমলে। স্বাধীনতার পূর্বের কথা বলছি।’

এর জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আজ তার (হারুনর রশীদ) আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি শুধু পাকিস্তান যেতে চান না। সব কিছু নিয়ে পাকিস্তান যেতে চান। আমরা সেখানে যাব না। সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না। আমরা ন্যায় বিচার দিয়েছি।’