ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ নিয়ে শঙ্কায় পাবনার কৃষকরা, আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন!

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ নিয়ে আশঙ্কায় ক্ষেতের আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন চলনবিলের পাবনাসহ পাশের দুই জেলার আট উপজেলার কৃষকরা। তবে ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই দুর্যোগের আগে ধান কাটার কাজ শুরু করতে পারছেন না পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাবে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। আঘাত হানতে পারে দুই এক দিনের মধ্যেই। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলনও হয়েছে বাম্পার। জমির ৬০ ভাগ ধান ইতোমধ্যে কাটার উপযোগী হয়েছে।

কৃষক কাজেম প্রামাণিক গত বছর দুই বিঘা জমির পাকা ধান কাটার আগেই আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এরপর শুরু হয় আগাম বন্যা। তলিয়ে যায় তার সব ধান। আশায় বুক বাধা এই কৃষক এ বছরও ধানের আবাদ করেছেন।

আসন্ন দুর্যোগের আশংকায় কাজেম প্রামাণিক তার জমির আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন। কারণ ঘূর্ণিঝড় ব্যাপকভাবে আঘাত হানলে জমির প্রায় পুরো ধান মাটিতে নুইয়ে পরবে। একই সঙ্গে যদি আগাম বন্যা হয় তাহলে একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না তিনি। তার মতো একই অবস্থা চলনবিলের বেশিরভাগ কৃষকের।

চলনবিলের পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচরা গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, সাড়ে তিন বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘা জমির ধান কাটা এখনও বাকি। শ্রমিক না পেয়ে ধান কাটতে পারছি না।

ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তিত মজিবর আরও বলেন, এ বছর বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ মন ধানের ফলন হয়েছে। কিন্তু দুর্যোগের আগে ধান ঘরে না তুলতে পারলে কিছুই পাব না।

চলনবিলের পাবনা বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান কাটার ভরা মৌসুমে প্রতিবছরই ধান কাটা শ্রমিক সংকটে পরে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত চলনবিল এলাকার কৃষক।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলনবিলের পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

এই চলনবিলের পাবনা সহ পাশের দুই জেলার আট উপজেলার এক দশমিক এক লাখ হেক্টর জমিতে এ বছর বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর থেকে প্রায় চার দশমিক পাঁচ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও, এ বছর উৎপাদন চার দশমিক ৭৫ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। তবে ফলনের এই সফলতা পেতে যথাসময়ে ফসল কাটতে হবে।

ফরিদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, ফরিদপুর উপজেলার মাত্র ৪৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।

চলনবিলের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী এলাকা পাবনার চাটমোহর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুম বিল্লা বলেন, প্রায় ৮০ শতাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে কাটার উপযোগী হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে আনেকেই সময় মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। আসন্ন দুর্যোগের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে কৃষকদের পাকা ধান কেটে ঘওে তোলার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হয়েছে।

শ্রমিক সংকটের কারণে চলনবিলের বেশিরভাগ এলাকায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন।

নিমাইচরা এলাকার রোজি বেগম বলেন, পুরুষরা মাঠ থেকে ধান কেটে আনে আর আমরা ধান মারাই, ধান ঝারা, শুকানো ও ব্যাগে ভরার কাজ করি। চলনবিলের প্রায় প্রতিটি এলাকায় নারীরা এভাবেই ধান কাটার ভরা মৌসুমে কাজ করে।’

চলনবিলের বিশাল এলাকা জুড়ে দুর্যোগের আগে ধান কেটে ঘওে তোলার জন্য কৃষকরা মরিয়া হয়ে কাজ করলেও আসন্ন দুর্যোগের হাত থেকে কতটা ফসল রক্ষা করতে পারবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

>> পাবনার নিয়মিত ভিডিও পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকনটি চালু করুন। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন