‘আগে টাকা দাও পরে কাম সারো’: মেয়েকে হত্যার আগে বাবা

পাঁচ বছর আগে নরসিংদীতে হত্যার শিকার ইলমা বেগমকে (১১) তার বাবার সামনেই মুগুর ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইমের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই শাজাহান গ্রুপের সাথে ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে এ হত্যাকাণ্ডে ইলমার পরিবার অংশ নেয়।’

এ ঘটনায় সিআইডি পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইলমার বাবা আব্দুল মোতালেব, মা মঙ্গলী বেগম, ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুম মিয়া, মো. বাতেন ও শাহজাহান গ্রুপের প্রধান মো. শাহজাহান ভূঁইয়া। এর মধ্যে মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিআইডি’র ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘নরসিংদীর বাহের চর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহজাহান গ্রুপের সঙ্গে সাবেক মেম্বার বাচ্চু গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইলমাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

২০১৫ সালের ২৭ মার্চ রাতে ইলমার দুলাভাই বাবুল ও ফুফাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আটজন মিলে ধান ক্ষেতে নিয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মেয়েকে ঘটনার সময় ইলমার বাবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় ইলমার বাবা হত্যাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আগে টাকা দাও পরে কাম সারো’। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময়ে চার লাখ টাকা পান।

ওই বছরের ২৮ মার্চ নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ ইলমার মরদেহ উদ্ধার করে। আর এ ঘটনায় ওই বছরের ৩১ মার্চ ইলমার বাবা বাদী হয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ আসামিদের ধরতে ব্যর্থ হলে সিআইডি মামলাটির তদন্ত শুরু করে।

সিআইডি তদন্ত শুরুর পর ইলমার বাবা নিয়মিতভাবে আসামি পরিবর্তন করার জন্য সিআইডিতে আবেদন করতে থাকেন। এতে সিআইডির সন্দেহ হলে তার পরিবারের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়।

পরে মাসুমকে গ্রেফতার করা হলে এ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন হয়। এখন ইলমার বাবা-মাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি আসামিদেরও গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এ কর্মকর্তা।