অস্ত্রসহ চীনের ১৬ সেনা স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভারতের ৪৫ হাজার সেনা মোতায়েন

লাদাখের সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সংঘাতে পর বেড়েই চলেছে উত্তেজনা। সংঘর্ষপূর্ণ সীমান্তে দুই দেশই ভারী অস্ত্রসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করছে। কেউ কারো থেকে কম যাচ্ছে না। পরিস্থিতি অনেকই যুদ্ধাবস্থা।

গালওয়ান উপত্যকার নতুন উপগ্রহচিত্রে ফের পরিবর্তন ধরা পড়েছে বলে দাবি করছে ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি। তাদের সংগ্রহ করা সর্বশেষ উপগ্রহচিত্রে গালওয়ান নদীর তীরে কালো ত্রিপলে ঢাকা অন্তত ১৬টি সেনা ছাউনির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এনডিটিভি বলছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) এসব সেনা ছাউনি চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মির।

এই সেক্টরে এলএসির ৯ কিলোমিটারের মধ্যেই ওই ১৬টি চীনা ক্যাম্পের অবস্থান ধরা পড়েছে উপগ্রহচিত্রে। এনডিটিভি বলছে, গত ১৫ জুন প্রাণঘাতী সংঘাতের পরও যে চীনারা তাদের অবস্থান থেকে সরেনি সেটাই প্রমাণিত হলো। ২৫ ও ২৬ জুনের এই ছবিগুলো তুলেছে প্ল্যানেট ল্যাবস।

গত ২২ জুনের উপগ্রহচিত্রে গালওয়ানে চীনের তৈরি পাকা কাঠামোর খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। এবার নতুন করে কালো কাপড়ে ঢাকা সেনা ছাউনির ছবি মিলল, যা আগে ছিল না।

এদিকে চীনাদের সেনাদের গড়ে তোলা ১৬টি সেনা স্থাপনা গুড়িয়ে দিতে ওই এলাকায় ভারী অস্ত্রসহ ৪৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে দিল্লি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দাদের দাবি, গলওয়ান নদী বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে প্রায় ১৩৭ মিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে চীন। বলা হচ্ছে, ওই এলকায় দীর্ঘদিন থেকে টহল দিচ্ছে ভারতীয় বাহিনী।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত যেমন বন্ধুত্ব জানে, তেমনই চোখে চোখ রেখে কথা বলতেও জানে। চীনের মোকাবিলায় ভারত যে প্রয়োজনে কড়া মনোভাব নিতে দ্বিধা করবে না, মাসের শেষ রবিবার (২৮ জুন) ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ভারতবাসীকে সেই বার্তাই দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন লাদাখের সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সংঘাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। উত্তেজনা নিরসনে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। তারপরও শান্তি ফেরার ইঙ্গিত মিলছে না।