অবশেষে পাবনা ছাড়লেন এমপি টুকু

অবশেষে এলাকা ছেড়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু। বিস্তর অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকালে কাজীরহাট-আরিচা রুটে ফেরি পার হয়ে ঢাকায় যান তিনি।

একই দিন সকালে পাবনা-১ আসনের এই সংসদ সদস্য এলাকা ছেড়েছেন কিনা তা জানাতে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে আদেশ দেন হাইকোর্ট। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা চিঠি দেওয়ার পরও তিনি ক্রমাগত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছিলেন।

সোমবার ঢাকায় যাওয়ার আগেও দুপুরে ছেলের পক্ষে বেড়া উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মাদরাসা শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীরা।

বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও টুকুর ছোট ভাই আব্দুল বাতেন অভিযোগ করেন, বেড়া পৌর নির্বাচনে এমপি টুকু নিজের ছেলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসিফ শামস রঞ্জনকে জেতাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এমপি পদ ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। এসব কারণে গত ১৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন তাকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও তিনি তোয়াক্কা করেননি। বরং ভোটার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের নৌকার ভোট না করলে পিষে ফেলার হুমকি দিয়েছেন।

আব্দুল বাতেন আরও বলেন, আমার ধারণা ২৫ তারিখ হাইকোর্টে রিট শুনানির পর তিনি আবারও এলাকায় ফিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন। আশা করছি নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, টুকুর আহ্বানে বেড়া উপজেলার ১২০ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসা শিক্ষক সোমবার দুপুরে এমপির বাড়িতে যান বলে নিশ্চিত করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন পাবনার উপ-পরিচালক ইমামুল ইসলাম। 

এমপি টুকুর অনুসারী এক জনপ্রতিনিধিও তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে বৈঠকের কয়েকটি ছবি আপলোড করেন। তবে নির্বাচনি বৈঠকে নয়, এমপির আমন্ত্রণে তার মৃত স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে মৃত মায়ের জন্য আয়োজিত দোয়ার অনুষ্ঠানে ছেলের জন্য ভোট ও দোয়া চাওয়ার ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড আছে জানালে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইমামুল ইসলাম বলেন, ‘এমপি টুকু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের তার বাড়িতে দাওয়াত করলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দোয়া মাহফিলে শরিক হয়েছি। তবে এটি সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক সভা। নির্বাচনি বৈঠক নয়। এখানে নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তার ছেলে আসিফ শামস সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে এমপিপুত্র ও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আসিফ শামস রঞ্জনের মোবাইল ফোনে বারবার কল করেও সাড়া মেলেনি।

এমপি শামসুল হক টুকু বলেন, ‘সোমবার আমি সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি। মঙ্গলবার সারা দিনও সংসদে ব্যস্ত সময় কাটছে। বেড়া পৌর নির্বাচন প্রসঙ্গে আমি ফোনে কোনও মন্তব্যই করবো না।’

নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর এই পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে মেয়র পদে টুকুর পরিবারেরই আছেন তিন জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এমপিপুত্র এসএম আসিফ শামস রঞ্জন, ছোট ভাই বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান মেয়র আবদুল বাতেন এবং ভাতিজি (বড় ভাই বদিউল আলমের মেয়ে) এসএম সাদিয়া আলম।

এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য এইচ এম ফজলুল হক এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ও সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি কেএম আবদুল্লাহ।