• আজ
  • শনিবার,
  • ২০শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং
  • |
  • ৭ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

পাবনার চরজুড়ে চোখ ধাঁধানো মাসকালাইয়ের আবাদ

প্রকাশ: ২৮ ডিসে, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা-যমুনা নদী বেষ্টিত পাবনার পাকশী ও কোমরপুর পদ্মা নদীর চরে এবার শত শত একর জমিতে মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। চর দু’টির বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে মাসকালাইয়ের ক্ষেত। এ এলাকার কৃষকরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মাসকালাই বপণ করেছে। আর এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কৃষক তাদের বপণকৃত মাসকালাই ঘরে তুলতে সক্ষম হবে। চলতি বছর দু’দফা বন্যার কারণে এবার মাসকালাই ঘরে উঠতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে কৃষকরা জানান।

পাবনা জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এবং সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলসহ পদ্মা ও যমুনা বেষ্টিত অন্যান্য চরাঞ্চলেও রেকর্ড পরিমাণ জমিতে কৃষক মাসকালাই বপণ করেছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। উপজেলার হাটবাজারে এই কালাইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নদীকূলীয় মানুষগুলো শীত মওসুমে খাদ্য তালিকার মাসকালাই বাধ্যতামূলক রাখেন। প্রতি কেজি মাসকালাই হাটে বাজারে ৬৫-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও যমুনা নদীকূলীয় মানুষগুলো তাদের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানের হাট বাজারে আমদানি করেন। পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকার কৃষক আনোয়ার আলী পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, এবার তিনি সাড়ে ৩ বিঘা জমি জুড়ে মাসকালাই বপন করেছেন। ফলন হয়েছে বেশ ভালো।

একই এলাকার রওশন আলী পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, এবার তিনি ৭ বিঘা জমিতে মাসকালাই বপন করেছেন। ফসলও হয়েছে বেশ ভালো। এই ফসল চাষে উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি। গ্রামগঞ্জে এই কালায়ের চাহিদা বেশ ভালো। চলাঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক চরের বিশাল মাঠ জুড়ে মাসকালাই বপন করেছে।

এ ব্যাপারে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ডা. বিপ্লব কুমার সাহা পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, মাসকালাই একটি একটি প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। যা মানব দেহে আমিষের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও খাদ্য হজমে সহায়তা করে। এ জাতীয় ডাল মানব দেহের কোন ক্ষতি সাধন করে না।

পাবনা কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিভুতি ভুষন সরকার পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, এবার জেলার ৯টি উপজেরায় ৭,৫০৫ হেক্টর জমিতে মাসকালাই আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবনা সদর ও ঈশ্বরদীতে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩,০৪০ হেক্টর জমিতে। এ দু’টি উপজেলার পদ্মা ও যমুনা চরাঞ্চলেই বেশি মাসকালাই আবাদ হয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তা জানান।

মাসকালাই একটি ডাল জাতীয় শস্য। মাসকালাই যে কোন জায়গায় বপণ করা যায়। মাস কালাই বপণের ৮৫-৯০ দিনের মধ্যে গাছে ফলন আসে। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে কৃষক মাসকালাই বপণ করে। এমনকি মাসকালাই রাস্তার পাশে বপণ করলেও ফলন পাওয়া যায়। মাসকালাই চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। আগাছা পরিষ্কার করতে হয় না। পোকামাকড় কম হয়।

ফলে উৎপাদন খরচ খুবই কম। সব দিক থেকেই মাসকালাই আবাদে কুষকের আগ্রহও বেশি বলে ওই কৃষিকর্মকর্তা জানান।