• আজ
  • শনিবার,
  • ২০শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং
  • |
  • ৭ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

নারীর নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে পাবনা

প্রকাশ: ৩০ নভে, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন সুবর্ণা নদী

প্রাচীনকালে বাইরের অঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে নারীর পদচারণা না থাকলেও বর্তমান সর্বক্ষেত্রে নারীর ব্যাপক পদচারণা ঘটেছে। সময়ের সাথে সাথে উন্নয়নের শিকড় হয়ে নারী সমাজও পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল স্তরে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম গতিতে। দেশের প্রশাসন যন্ত্রে নারীর পদায়ন আগের চেয়ে অনেক অংশে বেড়ে গেছে। কাজের ক্ষেত্রে এখন কেউ আর নারী (জেন্ডার ইস্যু) বলে বিশেষ চোখে দেখেন না। কারণ হিসেবে দেখা গেছে- নারীরা সকল কাজ অনেক গুরুত্ব দিয়ে করে থাকেন। রাতদিন সব সময় তারা রাষ্ট্রের কাজে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করেন। দুরন্ত গতিতে সব কাজেই তারা ছুটে চলেন।

সাধারণত একটি জেলার উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার গুরু দ্বায়িত্ব অর্পিত থাকে একজন ডিসির (জেলা প্রশাসক) হাতে। বাংলাদেশে মোট ৫ জন জেলা প্রশাসক অবিরাম গতিতে কাজ করে যাচেছন। এর মধ্যে পাবনার ডিসি (জেলা প্রশাসক) রেখা রাণী বালো। তিনিও পাবনার উন্নয়নে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। সকল উন্নয়নে রয়েছে পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালোর পদচারণা। ১৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন রেখা রানী বালো। জন্ম স্থান মানিকগঞ্জ হলেও তার কাজের দক্ষতায় মনে হয় তিনি পাবনায় জন্মগ্রহণ করেছেন। উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন সালমা খাতুন। এছাড়া পাবনা ডিসি অফিসে মোট ৫ জন নারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশাসন কাজে নিয়োজত রয়েছে।

পাবনায় দ্বিতীয় নারী এএসপি (সহকারি পুলিশ সুপার) শামিমা আক্তার। ঢাকা ইউনির্ভাসিটি থেকে এলএলবিএলএল শেষ করে ২৭তম বিসিএস এ যোগদান করেন পুলিশ বাহিনীতে। পাবনার কুষ্টিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন এ অদম্য সাহসী নারী পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া পাবনার সুজানগরে সহকারি পুলিশ সুপার (প্রশিক্ষক) এ রয়েছেন সালমা সুলতানা আলম। তিনি ৩৪তম বিসিএসে যোগদান করেন।

পাবনা জেলার শিল্পকলা একাডেমির জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা পদে কর্মরত রয়েছেন মারুফা মানজারি খান। সাংস্কৃতিক বিষক মন্ত্রণালয়ের অধিনাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ২০১৪ সালে জানুয়ারিতে যোগদান করেন তিনি। পাবনা জেলার রূপকথার গোপালপুরে জন্ম ও তার বেড়ে ওঠা।

পাবনা জেলার অকুতভয় নারী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুর নাহার রেখা। রাজনীতিতে ১৯৮১ সাল থেকে মাঠ পর্যায়ে গণমানুষের নিবেদীত প্রাণ হয়ে তিনি কাজ শুরু করেন। জন্মস্থান পাবনা না হলেও পাবনার মাটিকে যেন আপন করে নিয়ে রাজনীতিতে হাটিহাটি পা পা করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছেন তিনি। এছাড়াও তিনি পাবনা জেলার নারী ফোরামের সভাপতিত্ব করছেন।

পাবনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাদিরা ইয়াসমিন জলি। ১৯৮০ সাল থেকে রাজনীতিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি পাবনা জেলার জাতীয় মহিলা সংস্থার দায়িত্ব পালন করছেন। পাবনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেলেনা বেগম। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নেহার আফরোজ জলি (প্রভাষক)। সহ-সভাপতি শামসুর নাহার খান এবং সহ-সভাপতি রোকেয়া বেগম।

পাবনার জেলা পরিষদে সংরক্ষিত মোট ৫ জন নারী সদস্য রয়েছেন। পাবনা পৌরসভায় সংরক্ষিত মোট ৫ জন নারী ওয়ার্ড মেম্বার রয়েছেন। সংরক্ষিত (১) তমা ইসলাম পুষ্প, সংরক্ষিত (২) মল্লিকা বেগম, সংরক্ষিত (৩) আফরোজা খাতুন ছবি, সংরক্ষিত (৪) শারবিনা আক্তার শাহনারা, সংরক্ষিত (৫) লাইলি বেগম কাজ করে যাচ্ছেন। পাবনার প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নারী শিক্ষিকা রয়েছেন।

হাসিনা আক্তার রোজি তিনি দুরারোগ্য ব্যাধী (ব্লাড ক্যান্সার) এ আক্রান্ত হওয়ার পরও পাবনার সেলিম নাজির উচ্চ বিদ্যালয়ে নিষ্ঠার সাথে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কার্যকর্মে তিনি যেন চিরচারিত ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছেন।

পাবনা রফিক আহাম্মেদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন তিনিও একজন নারী। পাবনার সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে রয়েছে নারী শিক্ষিকা। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে রয়েছে বহু নারীর পদচারণা। বিভিন্ন এনজিওতে পুরুষের তুলনায় নারী কর্মচারীর সংখ্যা অনেক বেশি।

প্রইমারি স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত নারী শিক্ষিকা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। পাবনা বার কাউন্সিলেও শতশত নারী আইনজীবী আইন পেশায় কর্মরত রয়েছেন।

পাবনা সদর হাসপাতালে নারী ডাক্তার ও শত শত নারী নার্স কর্মকর্তা-কর্মচারি নিঃস্বার্থ ভাবে জনগণের সেবা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও পাবনার মানসিক হাসপাতালে শতাধিক নারী নার্স মানসিক রুগিদের সেবা করে যাচ্ছেন।

পাবনায় মফস্বল শহর হলেও এই শহরে নারী সাংবাদিকও। সাংবাদিকতার এই মহৎ পেশায় রাতদিন নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে চলছে। যদিও পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন নারীর এই কঠিন মহৎ পেশায় নিজেকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করা বহুগুণে কষ্ট সাধ্য তবুও অবিরাম গতিতে সংগ্রাম করে নিজের স্থানে নিজেকে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা। সাংবাদিক সুবর্ণা নদী, মাহমুদ নাসিন, নাসরিন অাক্তারসহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় কর্মরত রয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, স্পিকার নারী, ধর্ষকের মা নারী, খুনির মা নারী, বিচারকের মা নারী, সংসদ সদস্যের মা নারী, পুলিশের মা নারী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীর মা নারী, মানবাধিকার কমিশন-সাংবাদিকের মা। নারী দল-বল, বাজার-ঘাট, মাঠ-ময়দান, এনজিও-ভিজিও সব দিকেই নারী তবুও যেন অরক্ষিত নারী।