• আজ
  • বুধবার,
  • ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

সাঁথিয়ায় ভুল চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছেন গৃহবধু

প্রকাশ: ২০ নভে, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন ফারুক হোসেন

পাবনার সাঁথিয়ায় হাতুরে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এক গৃহবধু হারাতে বসেছেন হাত। হাতুরে ডাক্তার শুশান্ত’র এমন চিকিৎসায় এলাকাবাসী বিস্মিত ও হতবাক হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, সাঁথিয়া পৌরসভাধীন দৌলতপুর ইমাম হোসাইন একাডেমির শিক্ষক জানে আলমের স্ত্রী আয়শা খাতুন (৩৫) এর ডান হাতে ব্যথা অনুভব হলে গত ৮ নভেম্বর চিকিৎসার জন্য যায় উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের সোনাতলা বাজারে অবস্থিত পল্লী চিকিৎসক ডাঃ সুশান্ত কুমার সরকার এর কাছে। তার নিজস্ব চিকিৎসার ধরণ হিসাবে এ ধরণের ব্যথা অনুভব হলেই ডাক্তার শুশান্ত বরাবরই ইনজেকশান স্টেরয়েড (ংঃবৎড়রফ) ব্যবহার করে থাকে। রোগী আয়শা খাতুনের ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেনি। তার ডান কুনুইয়ের জোড়ায় এ ইনজেকশান দেওয়ার পর পরই তীব্র ব্যথা শুরু হয়।

ব্যথার মাত্রা ক্রমেই বেশি হলে এবং হাত ক্রমান্বয়ে অবেশ অনুভব ও হাত নড়াচড়া করাসহ উঠাতে না পারায় বাধ্য হয়ে গত ১৮ নভেম্বর চিকিৎসার জন্য শিক্ষক জানে আলম স্ত্রী আয়শা খাতুনকে নিয়ে শরনাপন্ন হয় সাঁথিয়ায় অবস্থিত পাবনা মানসিক হাসাপাতালের অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাজী মুন্নাফুর রহমান এর নিকট। সেখানে গেলে শুশান্ত’র ভূল চিকিৎসার ঝাড়ি ঝুড়ি ফাঁস হয়ে যায়। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ব্যাথা সারানোর জন্য ডাঃ শুশান্ত ইন্ডিয়ান এই ইনজেকশান দিয়ে থাকে। এ রোগীর ক্ষেত্রেও এ ধরনের ইনজেকশান দিয়েছে বলে রোগীর স্বামী জানে আলম জানান।

এ ধরনের অসুখের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান ইনজেকশান ষ্টেরয়েড দেয়া যায় কিনা এ ব্যাপারে ডাঃ কাজী মুন্নাফুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান,সচরাচর এধরনের ইনজেকশান দেওয়া হয় না। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাক্তারের পরামর্শে এ ধরনের ইনজেকশান দেয়া যাবে তাও পায়ের হাটুর জয়েন্টে। অন্য কোন অঙ্গে নয়। তিনি আরও জানান, ডাঃ সুশান্ত’র ভূল চিকিৎসার কারণে প্রতিমাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত রোগী আমি পাই। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে ডাঃ সুশান্ত এ ধরনের ব্যাথানাশক ইনজেকশান দেবার কারণে বহু রোগীর অঙ্গহানী হয়েছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে।