• আজ
  • বুধবার,
  • ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

পুরোনো নৌকা থেকেই আসবাবপত্র!

প্রকাশ: ১৪ নভে, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব সংবাদদাতা

পাবনার বেড়া উপজেলা যমুনার পারে অবস্থিত নাকালিয়া বাজার। এখানে গড়ে উঠেছে পুরোনো নৌকা ভাঙার কারখানা। পুরোনো নৌকা ভেঙে সেই কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আসবাব। শুধু চরের মানুষই এগুলোর ক্রেতা নন, দূর-দূরান্তের মানুষও এগুলো কিনতে আসেন এই বাজারে।

নাকালিয়া বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যমুনা নদীর একেবারে পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে নৌকা ভাঙার ৮ থেকে ১০টি কারখানা। প্রতিটি কারখানার আছে দুটি অংশ। একটি অংশ নদীসংলগ্ন। সেখানে পুরোনো নৌকা ভাঙার কাজ চলে। অন্য অংশটি সামান্য ওপরে। সেখানে চলে আসবাব তৈরির কাজ।

ভাঙা নৌকার কাঠ থেকে সবচেয়ে বেশি তৈরি করা হয় চৌকি, দরজা ও হাঁস-মুরগির ঘর। এ ছাড়া টেবিল, চেয়ারসহ অন্যান্য আসবাবও তৈরি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাঠের গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ঘরের কাঠামো তৈরির উপযোগী সামগ্রীও বানানো হয়।

কারখানার মিস্ত্রি নূরজামাল বললেন, ভাঙা নৌকার কাঠ থেকে তৈরি আসবাব নতুন কাঠের আসবাবের চেয়েও বেশি মজবুত ও টেকসই। কারণ নৌকাগুলোতে প্রতিবছরই আলকাতরা দেওয়া হয়। এতে করে কাঠগুলো শক্ত হয়ে ওঠে। এর ওপর বছরের পর বছর পানির সংস্পর্শে থাকায় কাঠগুলোতে সামান্য পরিমাণও ঘুণে ধরে না। এই আসবাব দেখতে সুন্দর হয় না। প্রতিটি আসবাবের গায়েই লেগে থাকে আলকাতরা আর পানিতে দীর্ঘদিন ভিজে থাকার ছোপ ছোপ দাগ। এ ছাড়া সেগুলোতে দেখা যায় পেরেক ও তারকাঁটার গর্ত।

তিনি আরো বলেন ‘নৌকার কাঠগুলো হয় দুই ধরনের। দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় এক ধরনের কাঠ পচে যায়। সেগুলো দিয়ে জ্বালানি বানানো ছাড়া কোনো কাজই চলে না। অন্যদিকে আলকাতরা ও পানিতে ভিজে থাকার কারণে কিছু কাঠ হয়ে ওঠে লোহার মতো শক্ত। এগুলোকে আমরা পানাইট বলি। এগুলা দিয়া আসবাব বানানো হয়। তিনি আরো জানান, ভাঙা নৌকার কাঠের একেকটি চৌকির দাম ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। হাঁস-মুরগির ঘরের দাম ১ থেকে ২ হাজার টাকা। দরজার দাম দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

বেড়া উপজেলার চর সাফুল্লা থেকে দরজা কিনতে আসা এসকেন্দার আলী বলেন, আমরা চরের মানুষ। সুন্দরের দরকার নাই। গুণের দরকার। তিনি জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি নৌকা ভাঙা কাঠের চৌকি কিনেছিলেন। এখনো সেটা আগের মতোই আছে।

কারখানার মালিক আইয়ুব আলী জানান, পুরোনো নৌকাই কারখানাগুলোর প্রধান কাঁচামাল। নতুন নৌকাগুলো ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আগে এ কাঠ জ্বালানি হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। নৌকা ভাঙার কারখানাগুলো গড়ে ওঠার পর নৌকার মালিকেরা কারখানার মালিকদের কাছে এনে সেগুলো বিক্রি করেন। ভালো দাম পান। তবে অনেক সময় কারখানার মালিকেরা বেরিয়ে পড়েন পুরোনো নৌকার খোঁজে।

তিনি আরো জানান, পুরোনো নৌকার খবর পাওয়ামাত্রই নৌকার মালিকের বাড়িতে চলে যান তাঁরা। অবস্থা ভেদে ২৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকায়ও নৌকা কেনা হয়। আয় কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাভের ঠিক নাই। একেক নৌকা থেকে কখনো কখনো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়, আবার কখনো কখনো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকাও লাভ হয়। এই কাজ করে তারা ভালই আছেন বলে জানান।