• আজ
  • শনিবার,
  • ২০শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং
  • |
  • ৭ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

পাবনায় ২৫ কোটি টাকার শিম বিক্রির টার্গেট

প্রকাশ: ১৩ নভে, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

শিম সাগর খ্যাত পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিভিন্ন গ্রামে শিম চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। শিম চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় গতবারের চেয়ে এবারেও শিম চাষে বিপ্লব ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। চলতি মওসুমে ২৫ কোটি টাকার শিম বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন এলাকার শিম চাষীরা। জেলার ঈশ্বরদী, পাবনাা সদর ও আটঘরিয়ায় উপজেলার ৪০টি গ্রামে প্রায় ৪ হাজার কৃষক শিম চাষ করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। প্রতি মৌসুমে এই এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার শিম বিক্রি হয়। আটঘরিয়া উপজেলার মাঠের পর মাঠ শুধু শিম আর শিম। তাই মানুষ এ এলাকার নাম রেখেছে শিম সমুদ্র। শিম চাষ করে এ এলাকার কৃষকেরা এখন আয় করছেন লাখ লাখ টাকা।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের শাহ জামাল প্রথম যশোর থেকে ইপসা ও দেশী জাতের শিমের বীজ এনে ১ বিঘা জমিতে শিম আবাদ শুরু করেন। প্রথম বছরেই শিম চাষ করে এলাকার কৃষকদের তাক লাগিয়ে দেন তিনি। মাচায় অভিনব কায়দায় শিম চাষ দেখে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়। ছুটে আসেন কৃষি বিভাগের বড় বড় কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। শাহ জামাল সে সময় ১ বিঘা জমিতে শিম চাষ করে খরচ বাদে লাভ করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। পরবর্তী বছর অনেক কৃষক শিম চাষ শুরু করেন।

তথ্যমতে, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে পাবনাা সদর, আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয়। এ এলাকায় রয়েছে পেঁয়াজ ময়েজ, পেঁপে বাদশা, গাজর জাহিদের মত নানা খেতাব প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক। এসব খেতাব প্রাপ্ত কৃষকদের অনুপ্রেরণায় এ এলাকার কৃষকেরা সবজি চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। এভাবেই তারা পর পর কয়েক বছর শিম চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। শিম চাষে সময় ও খরচ খুবই কম এবং সার বিষ তেমন না লাগায় এ অঞ্চলের কৃষকরা অন্য যে কোন আবাদের চেয়ে শিম আবাদে আগ্রহ বেশী।

চলতি বছর আটঘরিয়ায় ১ হাজার ৭শ’ ৫০ একর জমিতে শিম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়। কিন্তু বেসরকারী এক সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এ উপজেলায় এবার শিমের আবাদ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমিতে। এ বছর আটঘরিয়ার নছিরামপুর, রামেশ্বরপুর, কাঁকমারি, কচুয়ারামপুর, দূর্গাপুর, রোকনপুর, পারখিদিরপুর, নাদুড়িয়া, সড়াবাড়িয়া, কালামনগর, সোনাকান্দর, খিদিরপুর, চাঁদভা, সঞ্জয়পুর, বাচামারা, রতিপুর, হাপানিয়া, বেরুয়ান, কুমারেশ্বর, লক্ষণপুরসহ আশেপাশের গ্রামগুলোর শতশত বিঘা জমিতে আবাদ হচ্ছে শিমের। যে দিকে তাকানো যায় শুধু শিমের আবাদ তাই এ এলাকার নাম দেয়া হয়েছে শিম সমুদ্র।

শিমের আবাদ নিয়ে কথা বলতেই রামেশ্বরপুর গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন পাবনাা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, এবছর তার নিজের সাড়ে ৩ বিঘা জমির পাশাপাশি তিনি অন্যার জমি চুক্তি নিয়ে মোট ৭ বিঘা জমিতে শিম আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা শিমের আবাদে তার খরচ হয়েছে মাত্র সাড়ে ৮ হাজার টাকা।

তিনি আরো জানান, এ বছর আবহাওয়া বিরুপ থাকায় অসময়ে অতিমাত্রা বৃষ্টি শিম চাষে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারপর বাজারে শিমের দাম ভাল হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে খরচ বাদে এবার একটু লাভের পরিমান বেশি হবে। মুলাডুলির শিম চাষী নাছির উদ্দিন পাবনাা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, তিনি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন, আবাদে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি। শিম উঠা সবে শুরু করেছে তাই তিনি প্রতি হাটে প্রায় ৮/১০ মন শিম পাইকারী বিক্রি করছেন। বাজারে এখন শিম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি হচ্ছে। ভোর হলেই শুরু হয় এসব এলাকায় শিম উঠানোর ধুম। এ যেন এক মহা আনন্দ। এই গ্রামেরই শিম চাষী আব্দুস সামাদ, আজগর আলী, হেলাল উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, আয়েজ উদ্দিন পাবনাা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, মাত্র ৪ মাসের ফসলে এত বেশী লাভ আর কোন ফসলে হয় না বলেই তারা শিমের আবাদ করেন। এ আবাদ করে এসব এলাকার মানুষ আয় করছে লাখ লাখ টাকা।

সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে পাবনাার শিমের আবাদের কথা। প্রতিদিন সকালেই পাবনাার মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, পারখিদিরপুর, খিদিরপুর ও বড়ইচড়ায় বসে দেশের বৃহত্তম শিমের হাট। এসব হাট থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক শিম বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে। রাজধানী ঢাকাসহ সিলেট, চট্টগ্রাম, চৌমোহনী, কুমিল্লার নিমসা, গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ, পঞ্চগড়, মাওয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিমের ব্যাপারী এবং আড়ৎদাররা ছুটে আসেন এখানে শিম কিনতে।

ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে আসা কাঁচামাল ব্যবসায়ী এবং আড়ৎদার রোস্তম আলী পাবনাা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, দেশের মধ্যে এখানেই সবচেয়ে বেশি এবং উন্নত জাতের শিম পাওয়া যায়। তবে এসব শিম ঢাকার বাজারে পৌঁছাতে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা উৎসাহ হারাচ্ছে। এক ট্রাক শিম ঢাকায় নিতে খরচ পড়ে কমপক্ষে ৮/১০ হাজার টাকা। এর সাথে অন্যান্য খরচও আছে। কৃষি কর্মকর্তা শাহিন হোসেন পাবনাা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, স্বল্প সময়ে অধিক লাভের কথা ভেবেই কৃষকদের আরো অধিকহারে শিম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এদিকে আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার বলছেন, এ উপজেলাতেই ১ হাজার ৭৫০ একর জমিতে শিম চাষ হচ্ছে। উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।