• আজ
  • মঙ্গলবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

দ্বিগুণ ব্যয়েও আটকে আছে পাবনাবাসীর স্বপ্ন

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টে, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন কাজী বাবলা

মাঝগ্রাম-পাবনা-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বারবার পিছিয়ে পড়ছে নির্মাণ কাজ। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত রেলপথের কাজ প্রায় শেষ। যে কোনো সময় উদ্বোধন হবে। আর উদ্বোধনের আশায় বুক বেঁধে আছে পাবনার বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে জেলার সবজি ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলছেন তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে সমস্যায় পড়ার দিন শেষ হতে চলেছে এবার।

বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পের প্রথম ফেজের কাজ ৮০ ভাগ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রথম ফেজে রয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত রেলপথ। দ্বিতীয় ফেজে আছে পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত রেলপথ। দ্বিতীয় ফেজের এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ ভাগ।

রেলওয়ে বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাবনাবাসীর বহু প্রতীক্ষিত মাঝগ্রাম-পাবনা–ঢালারচর রেলপথের কাজ ২০১৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়। প্রথমে বরাদ্দ ছিল ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বর্তমানে এ ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২৯ কোটি টাকা। এ ব্যয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।

মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত ২৫ কিমি. রেলপথ ও ৪টি স্টেশন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরে যাত্রী চলাচলের জন্য ট্রেন চলবে। ইতিমধ্যে মাঝগ্রাম, দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া ও পাবনায় স্টেশন নির্মাণসহ রেললাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ঈশ্বরদীর অদূরে মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত ৩৬টি ছোট ও দুটি বড় ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। অপরদিকে পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৬টি ছোট ও ৯টি বড় ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

এ ব্যাপারে পাবনার পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ আসাদুল হক পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প। হাজারও মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে এর মধ্যে দিয়ে। ইতিমধ্যে পাবনা পর্যন্ত ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরেই পাবনা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আর এই ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনের আশায় আছে পাবনার বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের সবজি চাষে বিখ্যাত ঈশ্বরদীর সবজি ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের বেশী সুবিধা হবে। তারা সহজেই এ অঞ্চল থেকে রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে পারবে। সবজিসহ নানা প্রকার মালামাল খুব সহজেই নানাস্থানে বহন করতে পারবে। এতে করে সবজি চাষিসহ ব্যবসায়ীদের মালামাল কেনাবেচা বেশী হবে। ফলে তাদের অর্থনৈতিক লেনদেনও বৃদ্ধি পাবে। প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।

ঈশ্বরদীর আওতাপাড়ার সবজি ব্যবসায়ী মিজান হোসেন পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, হরতাল হলে পরিবহন সংকটে আমরা সবজি বিক্রি করতে পারি না। রেল লাইন হলে হরতালের সময়ও আমরা সবজি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবো।

ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সুবক্তগীন পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, অচিরেই প্রকল্পটির নির্মান কাজ শেষ হবে। আশা করছি, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই রেলপথটি উদ্বোধন করা হবে। এই পথে ট্রেন চালু হলে যাত্রীদের সহজ চলাচলে সুযোগ সৃষ্টি হবে। মালামাল পরিবহন সহজ হবে। এতদঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভাব বিস্তার হবে। বিশেষ করে দেশের সবজি চাষে বিখ্যাত ঈশ্বরদী অঞ্চলের সবজি ব্যবসায়ী ও চাষিরা বেশী লাভবান হবে।

পাবনা সদর আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক প্রিন্স পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, যোগাযোগই হচ্ছে একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান মাধ্যম। ইতোমধ্যেই সারা দেশে সড়ক ও রেল উন্নয়নে যে মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ হলে গোটা দেশের চিত্রই পাল্টে যাবে। মাঝগ্রাম-পাবনা-ঢালার চর রেল পথ চালু হলে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি আরও অনেক বেশি গতিশীল হবে।